পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়েও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) শুরু হয়েছে নতুন প্রশাসনিক অস্থিরতা। ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে বোর্ডের পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আমজাদ হোসেন। সোমবার (২৩ মার্চ) তিনি বিসিবি প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক একটি পত্ৰ পাঠিয়ে তার পদত্যাগ জানিয়েছেন, যা বোর্ডের এক উচ্চপদস্থ পরিচালক সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এই পদত্যাগের পূর্বপ্রেক্ষিতে ঘটেছে দ্রুতগতির একটি ঘটনা — ঠিক একদিন আগে, রোববার সন্ধ্যায় বিসিবির অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল করা হয় এবং আমজাদকে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই পদে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পান মোখছেদুল কামাল বাবু, যিনি আগে ওই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বিসিবির ওয়েলফেয়ার কমিটির দায়িত্বও পালন করছেন। আমজাদকে গত বছরের অক্টোবর মাসে মিডিয়া কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে তাকে হঠাৎ করে সেই পদ থেকে সরানোর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
বৈঠক ও বদলির এই ছেদন এবং ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে করা পদত্যাগ—এই কাজকর্মের ধারাবাহিকতাই ক্রীড়া মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিসিবির অধিকাংশ কর্মকর্তা এই মুহূর্তে ঈদের ছুটিতে থাকায় বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ঘটনাগুলো আগে থেকেই সরেজমিনে আলোচনায় ততটা আসেনি; তবু আমজাদ হোসেনের প্রস্থান ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা জাগিয়েছে। অফিসিয়াল পদত্যাগপত্রে তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন, তবু সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানোই তাঁর পদত্যাগে প্রধান প্রভাব ফেলেছে।
এ ঘটনার পর থেকে প্রশ্ন উঠছে—বিসিবির এই রদবদল কি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আরও কোনো পরিবর্তন বা পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে? আমজাদের খালি থাকা পরিচালকের পদে ভবিষ্যতে কার নিয়োগ হবে, কিংবা বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামোয় আরও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন ও কৌতূহল বাড়ছে। সব মিলিয়ে ঈদের বিশেষ সময়ে বিসিবির অন্দরের এই ঘটনাবলী দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের ভবিষ্যৎ রূপরেখায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সেই প্রভাব পারস্পরিকভাবে পর্যবেক্ষণীয় থাকবে।














