জাতীয় সংসদের গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ‘জুলাই দায়মুক্তি’ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটির প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্যে সবাই একমত পোষণ করেছেন। বৈঠকের প্রথম দিনে মোটামুটি ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনগণের জুলাই মাসের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব অধ্যাদেশ সংবিধানবিরোধী হলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
বিশেষ কমিটির সভা মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম।
বৈঠক কার্যক্রমের শুরুতে ১৯৭১ সালের নয়—হওয়া উচিৎ—চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়। এরপরই অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়।
স্বল্প সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬’। বৈঠকে উপস্থিত সব সদস্য এই অধ্যাদেশটির প্রতি আপাতত একমত প্রকাশ করেছেন। এর পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ অন্তত ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়।
কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতিটি অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা, সাংবিধানিকতা ও জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিল রয়েছে কি না তা খতিয়ে 보고 প্রতিবেদন হিসেবে জাতীয় সংসদের অধিবেশনকে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে কোন অধ্যাদেশ 그대로 আইনে পরিণত করা যায়, কোনটি সংশোধন প্রয়োজন তা নিয়েই পর্যায়ক্রমিকভাবে আলোচনা চলবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশ এক বৈঠকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়, তাই কয়েক দফায় বৈঠক হবে। অনেক বিষয়ের উপর ইতিমধ্যে সাধারণ সমঝোতা গড়ে উঠেছে এবং ‘জুলাই দায়মুক্তি’ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি সংক্রান্ত সমর্থন পাওয়া গেছে। আগামীতে প্রতিটি অধ্যাদেশের গ্রহণ, সংশোধন বা আরও পরিবর্তন প্রয়োজন—এসব ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের পর্যালোচনা কাজ শুরু হয়েছে এবং তারা ২ এপ্রিলের মধ্যে একটি সংকলিত প্রতিবেদন জমা দেবেন। তিনি বলেন, সংবিধান ও জনআকাঙ্ক্ষা—দুইয়ের মধ্যকার সমন্বয় বজায় রেখে এগুতে চাই। তবে সংবিধান সর্বোচ্চ ও অগ্রণী দেশীয় কাঠামো হিসেবে আগে থেকেই থাকা উচিত।
আইনমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, বিশেষ কমিটির সুপারিশই সরাসরি আইনে পরিণত করে না; কমিটি তাদের মতামত ও সুপারিশ সংসদে তুলে দেবে এবং শেষ সিদ্ধান্ত কী হবে তা সংসদ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ১৫ মার্চের অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনো অধ্যাদেশ জারি করলে পরবর্তী প্রথম সংসদীয় অধিবেশনে তা উত্থাপন করতে হয়; সংসদ যদি গ্রহণ না করে তাহলে সেই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা থাকবে না।












