ঢাকা | বুধবার | ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদের পর সারাদেশে তেলের তীব্র সংকট: অধিকাংশ পাম্প বন্ধ, যোগাযোগ বেলায়

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছাড়াও শরীর ঠিক মেলার আগেই সারাদেশে তীব্র জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলো নাইটশিফট বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে; ফলে চালক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর। পঞ্চগড়—দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৯৩ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ৪৬টি পাম্পের মধ্যে ৪৩টি বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ। কুড়িগ্রামের ২০টি পাম্পের একটিতেও তেল নেই; রবিবার থেকেই সবগুলো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজশাহীতে ৪৪টির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পাম্প বন্ধ রয়েছে। রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতি বলেছে, ঈদের আগে থাকা মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ না পাওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি সাড়ে ১৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার লরিতে মাত্র তিন হাজার লিটার তেল পৌঁছে যাচ্ছে। মালিকরা জনরোষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছেন।

দক্ষিণাঞ্চলেও relief মেলেনি। বরিশাল নগরী ও দশটি উপজেলার মহাসড়কসংশ্লিষ্ট পাম্পগুলো দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। বরিশাল ও খুলনার পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পাম্প চালু রাখতে পারছেন না। খুলনায় ৩৬টি পাম্প সংকটের মুখে। চট্টগ্রামে মোট ৩৮৩টি পাম্পের অনেকখানে অকটেন থাকলেও ডিজেল নেই, আবার কোথাও ডিজেল থাকলেও অকটেন নেই। চট্টগ্রাম বিভাগের পাম্প মালিকরা আশা করছেন ব্যাংক খুললে পে-অর্ডার জমা দিয়ে বিকেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। তাদের ব্যাখ্যা—ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকা ও ডিপো থেকে সীমিত সরবরাহ এই সংকটের মূল কারণ।

বগুড়ায় ৭২টি পাম্পের মধ্যে ৩৫টি বন্ধ, রংপুরে ৪০টির মধ্যে ২০টি বন্ধ আছে। ময়মনসিংহে বেশিরভাগ পাম্প ঈদের দিন থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে। সংকট ব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্র ছোট বাজারে লিটারপ্রতি ২৫০–৩০০ টাকায় তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ধারণা রয়েছে যে দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ কেউ মজুদ করে রেখেছেন; পাম্প মালিকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাধারণত সরবরাহ সংকটকেই দায়ী করছেন।

কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় জেলা প্রশাসন পাম্পগুলোতে বিশেষ অভিযান চালালেও কোথাও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যায়নি। ফলে অ্যাম্বুল্যান্সসহ জরুরি সেবা দিয়ে যাওয়া যানবাহনও জ্বালানি সংকটে পড়ছে। বহু স্থানে দীর্ঘ সারি, রেশনিং ও সীমিত বিতরণ শুরু হয়েছে, তবু চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই অচলাবস্থা সহজে কাটবে না।

সড়কে যাত্রী ও মালামাল চলাচল নির্ভর করছে তেলের উপর—এখন পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় সড়ক যোগাযোগ স্থবির প্রায়; সাধারণ মানুষের ঈদ-পরবর্তী কর্মস্থলে ফেরার পথ আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা na নিলে পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি আশা করা কঠিন।