ঢাকা | সোমবার | ২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদে সুন্দরবন: চমকপ্রদ ভ্রমণগন্তব্য হতে যাচ্ছে

ঈদকে সামনে রেখে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন পূর্ণভাবে পর্যটকদের অভ্যর্থনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বনবিভাগেরOfficials আশা করছেন ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশি-বিদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের উল্লেখযোগ্য আগমণ হবে।

পর্যটকদের সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুন্দরবনের করমজল, হাড়বাড়িয়া, আন্দারমানিক, আলিবান্ধা, কটকা, কচিখালী ও আলোরকোলসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে বিশেষ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বনরক্ষীদের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বজায় থাকে।

শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমাদের টিম, র‍্যাব, কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক কাজ করছে।” তিনি জানান, টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি জরুরি সেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

নদীপথে চলাচলের সময় লঞ্চ ও ট্রলার অপারেটরদের সতর্ক করা হয়েছে—প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফজ্যাকেট রাখতে হবে এবং জাহাজের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। তদুপরি, নৌযানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্রুদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শরণখোলার ট্যুর অপারেটর মো. রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, “ঈদকে ঘিরে বুকিং বেড়েছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।” স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গাইডরাও বেড়ন্তদের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

একই সঙ্গে বনবিভাগ পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বনের ভেতরে উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার ও একবারব্যবহারের প্লাস্টিক নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, এবং এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে যা বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নানান প্রজাতির জীববৈচিত্র্য ও শান্ত পরিবেশের কারণে এবারের ঈদে সুন্দরবন অনেক পর্যটকের জন্য প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। বনবিভাগ ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা অনুরোধ করেছেন—পর্যটকরা নিয়ম মেনে ও সচেতনভাবে ভ্রমণ করলে সুন্দরবন সবার জন্য নিরাপদ ও আনন্দদায়ক গন্তব্যে পরিণত হবে।