আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার দেশকে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে নিবিষ্টভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রোববার ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলাで অনুষ্ঠিত এক শিক্ষক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও আইনের শাসনের বাংলাদেশ চাই।” তিনি আরো জানান, নির্বাচনের আগে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের অনেকের আঙুলে ভোটের কালি এখনো মুছে যায়নি। সেই কালি মোছার আগেই নির্বাচনের আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অধিকাংশই অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে গিয়েছি। আমরা বলেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। আমরা আমাদের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে রেজোল্যুশন নিয়ে বাংলাদেশের ১১ লাখেরও বেশি কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি, যার পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। আলহামদুলিল্লাহ, এটি আমরা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছি।”
তিনি আরও জানান, সরকার দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেক পরিবারের জন্য পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। “আমরা পাইলট প্রকল্প হিসাবে ইতিমধ্যে ৩৮ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করেছি। আশা করি আগামী বাজেটের মধ্যেই দেশের প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে পারব,” তিনি বলেন।
খাল খনন কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “আমরা বলেছিলাম খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব—আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদনদী ও খাল খনন করে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে। ১৬ মার্চ থেকে এই খাল খনন কার্যক্রম আমরা চালু করেছি।”
সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছি। কারণ একজন মসজিদের ইমাম যখন ইমামতি করেন, তখন তার আয়ের মাত্রা অনেক সময় দৈনন্দিন প্রয়োজনও মেটাতে কষ্টকর হয়; তাই তাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো আমাদের সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশে সবচেয়ে নির্যাতিত পরিবারের তালিকায় জিয়া পরিবার ১৬ বছরের মধ্যে শীর্ষে ছিলেন—এটাই আমাদের প্রত্যক্ষ জ্ঞান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নির্যাতনের শিকার; ওয়ান ইলেভেনের সময় তাকে পঙ্গু করা হয়েছিল, তার মাকে বন্দি করা হয়েছিল, এবং তার ভাই বিদেশে মারা গেছেন। জিয়া পরিবারের চেয়ে বাংলাদেশে আর কোনো পরিবার এত বেশি নির্যাতিত হয়নি বলে আমি মনে করি। প্রায় ১৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে ১৭ মিনিট বক্তৃতা দিয়েছিলেন; তার ভাষণে কোনো প্রতিহিংসার আগুন জ্বলেছিল না, তিনি প্রতিশোধাভিমুখী হননি।”














