ঢাকা | রবিবার | ২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল: সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশের মূল ভিত্তি গণতন্ত্র ও সমঅধিকার। এই দেশে সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা সদর উপজেলা রামকৃষ্ণ আশ্রমের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা এমনই এক বাংলাদেশে ফিরে এসেছি যেখানে সাম্য, মানবিকতা ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত সমাজ গঠনের পথ রয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য দল-মত, পথ, জাতি ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তির ধর্ম নয়—মানুষ হিসেবে তার কর্মই পরিচয় বহন করে; কর্মের মাধ্যমে একজন মানুষ ও সমাজের মূল্যায়ন হয়।

তিনি Government-এর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সরকার দেশের সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে মুসলিমদের ইমাম-খতিব, হিন্দুদের পুরোহিত ও সেবাইত, খ্রিস্টান ধর্মগুরুসহ সকল ধর্মীয় নেতাদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মানবজীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি মনে করিয়ে দেন যে জাগতিক অর্জন কিছুই সঙ্গে নেওয়া যায় না। ধর্মীয় শিক্ষার মূলমন্ত্র হচ্ছে মানবতা, ন্যায় ও সততা এবং পাপ থেকে বিরত থাকা। সব ধর্মই সাম্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়; তাই একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা আবশ্যক।

কায়সার কামাল প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি ধর্মের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, হিন্দু- মুসলিম- খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ—সকলেই যেন গর্ব করে বলতে পারে, এই দেশ আমার বাংলাদেশ—এই মনোভাবই আমাদের কাজের উদ্দেশ্য।

ডেপুটি স্পিকার মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মভেদ না করে সকলেই দেশের জন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো বলে স্মরণ করান; তখন জাতি-ধর্ম নয়, দেশের মুক্তিই মুখ্য ছিল। ঠিক তেমনি এখনও দেশের গড়নে সব শ্রেণি-পেশার অংশগ্রহণ জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর থেকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে নেয়ার যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে বলে তার আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা রামকৃষ্ণ আশ্রমের সভাপতি অনুজ চক্রবর্তী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক গোপেশ চন্দ্র সরকার।

এর আগে ওই দিন দুপুরে কলমাকান্দা হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে স্কুল মাঠে আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, একটি কার্যকর ও গঠনমূলক বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না। সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক কাঠামো দৃঢ় ও কার্যকর থাকে। যদি বিরোধী দল দায়িত্বশীলভাবে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে, তাহলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়ে দেশ কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগোয়।

কায়সার কামাল বলেন, দুঃখজনকভাবে গত ১৫-২০ বছরে দেশে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন বিরোধী মতপ্রকাশের পরিবেশ ছিল না; জাতীয় সংসদ অনেকক্ষেত্রে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ হয়ে পড়েছিল এবং বিরোধী দল ছিল নামমাত্র — এ পরিস্থিতি ফ্যাসিবাদের পথ প্রশস্ত করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশরপাশা হরিশ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জব্বার খান, বিদ্যালয়ের জমিদাতা মিল্টন ঘোষ, জালাল উদ্দিনসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।