ঢাকা | শনিবার | ২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ্বব্যাংক সতর্ক: বাংলাদেশের তরুণদের প্রায় অর্ধেক বেকার

বিশ্বব্যাংক বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজারে ঢুকা বিপুলসংখ্যক তরুণের বড় অংশই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না—গত এক দশকে বাজারে আসা তরুণদের প্রায় অর্ধেকই এখনো চাকরির বাইরে থাকেন। নারীরাও এ ক্ষেত্রে আরও অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট এই তথ্য জানান। তিন দিনের সফর শেষে তিনি ওই দিনই ঢাকা ত্যাগ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দশ বছরে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ তরুণ দেশে শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় ৮৭ লাখ। ফলে যে বিশাল সংখ্যক যুবক-যুবতী কাজ পাচ্ছেন না, তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ ফেলতে পারে।

ঢাকায় অবস্থানকালে জাট ওই সময় সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠক করেন—অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে তিনি আলাপ করেছেন। এসব আলোচনায় দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও সম্ভাব্য সহায়তার ক্ষেত্র নিয়ে মতবিনিময় হয়।

তিনি বলেন, সরকার বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকও সহযোগিতা জোরদার করবে, বিশেষ করে যুবক ও নারীদের জন্য কাজ তৈরিতে কাজ করবে।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও তিনি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন। তিনি সংবাদপত্রে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক সদস্য দেশগুলোতে এমন অর্থনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে যেখানে প্রবৃদ্ধির সুফল সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হয়। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সহায়তা অব্যাহত থাকবে।