একদিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসব ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ ঘরমুখী হয়েছেন। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আগত যাত্রীদের ভিড় দৌলতদিয়া ঘাটে বাড়লেও তাতে বড় কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকেই ঘাটে যাত্রীদের চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফেরি ও লঞ্চঘাট জুড়ে ভিড় থাকলেও যাত্রীদের ওঠা-নামা ও যানবাহনের পারাপারে তেমন জট দেখা যায়নি; লঞ্চ ও ফেরি থেকে নেমে সোজা ঘাটে এসে গন্তব্যে যেতে পারছেন মানুষ।
ঢাকার গাজীপুর থেকে যশোরগামী গার্মেন্টস কর্মী সেকেন্দার আলী বলেন, পথে কোনো যানজট হয়নি। গাবতলি থেকে সরাসরি পাটুরিয়ায় এসে নদী পার হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘এখন কেবল বাড়ি পৌঁছানোই রয়ে গেছে।’’
পাংশাগামী মোটরসাইকেল চালক নুর মোহাম্মদ জানান, পাটুরিয়া থেকে সহজেই মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরি পারাপার করার সুযোগ পেয়েছেন, ফলে পথে বেশি সময় নষ্ট হয়নি। আরেক যাত্রী সুমন বলেন, ‘‘বাসের ভাড়া একটু বেশি নিচ্ছে, তবুও যেতে হবে—ঈদের সময় এ সমস্যাটা থাকে।’’
বিআইডব্লিউটিসির (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাপরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ভোগান্তি রোধে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ওই নৌরুটে ১৭টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলাচল করছে, যাতে যাত্রী ও যানবাহন সহজে নদী পার হতে পারে। তিনি জানান, ঘাটে ভোগান্তি কমাতে তারা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঘাটক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টসহ নিরন্তর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া রোধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—মূল উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, আজ এক মাহিন্দ্র চালকের বিরুদ্ধে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।
আশা করা হচ্ছে, এসব প্রস্তুতি ও নজরদারি থাকায় ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।














