জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ঈদ উদযাপনে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই, তবু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ঢাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মোট ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদ মিলিয়ে ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মোট পাঁচটি জামাত আয়োজন করা হয়েছে; প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল সাতটায়। এছাড়া আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে জামাত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে সময় মিল রেখে কিছু জামাত একদিন আগেও আয়োজন করা হবে — ঢাকায় আগের দিন তিনটি জামাতের আয়োজন থাকছে এবং শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য পৃথকভাবে আটটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকার্রম ও রাজধানীর সকল ঈদগাহ ও মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে — প্রবেশ গেটগুলোতে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে, পুরো ময়দান ও আশেপাশে সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং হবে। প্রধান আগমন পথগুলো—মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষাভবনের দিকে ব্যারিকেড বসানো থাকবে যাতে অবাঞ্ছিত যানবাহন ময়দানের আশেপাশে আসতে না পারে; সেখানেও আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হবে।
মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশদ্বার ও আলাদা তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে এবং সকল মুসল্লিকে মূল গেট দিয়েই ভেতরে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। মাঠের চারপাশে নিয়মিত পুলিশ টহল চলবে। সিটিটিসি‑র ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম এলাকাটি ঝুঁকি পরীক্ষা করবে। ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পাশাপাশি সোয়াট, সাদা পোশাকে থাকা ডিবি সদস্য এবং সিটিটিসি কর্মীরা খোলোজ ছবি কাজ করে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবেন।
নিরাপত্তার একটি প্রশ্নের জবাবে মো. সরওয়ার বলেন, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিবিড় মনিটরিং করছে; তারা কোনো ঝুঁকি শনাক্ত করলে আমাদের জানাবে এবং সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব। জনগণের শান্তি ওাইস্তিতি বজায় রাখতে ডিএমপি সবসময় সতর্ক ও প্রস্তুত।












