হলিউডের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের ৯৮তম আসর অনুষ্ঠিত হয় গত ১৫ মার্চ। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সেরাদের সম্মানিত করা এই অনুষ্ঠানে এবার নজর কেড়েছে কয়েকটি বড় বিস্তারিত অর্জন।
সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন মাইকেল বি. জর্ডান। তিনি ‘সিনার্স’ সিনেমায় ‘স্মোক’ ও ‘স্ট্যাক’ নামে যমজ চরিত্রে অনবদ্য দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য এই সম্মান পেলেন। পুরস্কার গ্রহণকালে আবেগপ্রবণ জর্ডান বিশেষভাবে সম্মান প্রকাশ করেন তাদের প্রতি, যারা আগে পথ তৈরি করেছেন—বিশেষ করে প্রথিতযশা কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতাদের দিকেই তাঁর কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করার কথাও উঠে আসে।
সেরা অভিনেত্রীর খেতাবটি জিতে নিয়েছেন জেসি বাকলি। ‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রে তার শক্তিশালী এবং স্মরণীয় অভিনয়ের জন্য তিনি এই সম্মান পান।
এই আসরের সবচেয়ে বড় আধিপত্য দেখায় পল থমাস অ্যান্ডারসনের পরিচালিত অ্যাকশন-থ্রিলার ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। ছবিটি মোট ছয়টি বিভাগে অস্কার জিতে অনন্য রেকর্ড গড়ে—সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা পার্শ্ব অভিনেতা, সেরা সম্পাদনা, সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্য এবং প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ‘সেরা কাস্টিং’ বিভাগে পুরস্কারসহ। দীর্ঘ কর্মজীবনে অ্যান্ডারসনের ওপর একগুচ্ছ মনোনয়নের পর এবারই প্রথম তিনি সেরা পরিচালকের অস্কার হাতে পেলেন; পুরস্কার গ্রহণকালে তিনি হেসে বলেছেন, একজনকে একটি অস্কার জিতে উঠতে প্রচুর পরিশ্রম আর ধৈর্যের পরীক্ষা পাস করতে হয়।
এই অনুষ্ঠানটি ইতিহাসও গড়ে—‘সিনার্স’ ছবির সিনেমাটোগ্রাফার অটাম ডুরাল্ড আরকাপাও সেরা সিনেমাটোগ্রাফি বিভাগে অস্কার জিতে প্রথম নারী হিসেবে ভিক্তি স্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা ভেঙে অস্কারে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তদুপরি, ‘সিনার্স’ মোট চারটি বিভাগে জয়ী হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
কারিগরি উৎকর্ষের মানদণ্ড দেখিয়ে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ তিনটি টেকনিক্যাল অস্কার জয় করে। সংগীত বিভাগেও চমক ছিল—‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ সেরা মৌলিক গানসহ দুটি বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেছে।
পুরস্কারবণ্টনের আনন্দের ছোঁয়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠানের একটি অংশ ছিল আবেগঘন—২০২৫ সালে চলচ্চিত্র জগৎ থেকে বিদায় নেওয়া প্রখ্যাত অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতাদের স্মরণে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেই তালিকায় উঠে আসে সম্প্রতি গত বছরের ডিসেম্বরে প্রয়াত হওয়া অভিনেতা ও পরিচালক রব রেইনারের নাম; এই সম্মানসূচক পর্বে জনপ্রিয় কমিক অভিনেতা বিলি ক্রিস্টাল তাঁকে প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং রেইনারের অবদানের কথা স্মরণ করান।
সব মিলিয়ে ৯৮তম অস্কার ছিল নবোদিত বিজয়ীদের উদযাপন, পুরোনো ইতিহাসের পুনর্লিখন এবং হারানো নক্ষত্রদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার এক মিশ্রণ—চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এক জীবন্ত, আবেগমুখর রাত্রি।














