ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ঝিনাইদহে কৃষকদল নেতার লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে নিহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর লাশ মর্গ থেকে নিয়ে শনিবার দুপুরে বিএনপি একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। মিছিলটি ঝিনাইদহ মর্গ থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হামদহ মোড়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, দলটির নেতা-কর্মী এবং নিহতের আত্মীয়স্বজন বক্তব্য দেন।

জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, ‘জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে। তার মাথায় বাশ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তারাই এই ন্যাক্কারজনক হত্যার জন্য দায়ী।’ তিনি ঘটনার স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার চেয়েছেন।

অন্যদিকে জেলা জামায়াত শনিবার দুপুরে তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে যে তরু মুন্সীর মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণেই হয়েছে। সদর উপজেলা জামায়াতের থানা আমীর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন এসে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানী করে। স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সাথে তাদের বাগানবিতণ্ডা ও সংঘর্ষ হয়। তর্কবিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় কেউ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করলে তার মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হচ্ছে।

পটভূমি-গত শুক্রবার সকালে মাধবপুর গ্রামের একটি স্থানে মহিলা জামায়াতের পক্ষে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছিল। দুপুরে ইফতারের আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নারী-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে মহিলাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের সংঘর্ষ দেখা দেয়। এতে দুপক্ষ মিলিয়ে অন্তত আটজন আহত হয়। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর অবস্থা গুরুতর থাকায় তাকে ঢাকার জন্য রেফার্ড করা হয়েছিল। ঢাকায় নেওয়ার পর রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত তরু মুন্সী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও নিহতের পরিবার ঘটনা নিয়েই তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার সত্যতা ও দায়ীদের শনাক্তে কর্তৃপক্ষের তরফে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।