ঢাকা | সোমবার | ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সরফরাজ আহমেদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা

পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক–ব্যাটার সরফরাজ আহমেদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা করেছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাদের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। এর সঙ্গে শেষ হলো প্রায় দুই দশকের একটি ঝকঝকে ও গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ার।

করাচিতে জন্ম নেওয়া সরফরাজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৭ সালে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেকের মাধ্যমে। তিন বছর পর ২০১০ সালে তিনি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলে খেলতে নামেন। পাকিস্তানের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ৫৪টি টেস্ট, ১১৭টি ওয়ানডে এবং ৬১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ; মোট আন্তর্জাতিক ম্যাচ তিনটি ফরম্যাট মিলিয়ে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তার সংগ্রহ ৬,১৬৪ রান, রয়েছে ৬টি শতরান ও ৩৫টি অর্ধশতক। উইকেটের পেছনে তার কীর্তিও চোখে পড়ার মতো — ৩১৫টি ক্যাচ এবং ৫৬টি স্টাম্পিং।

অধিনায়ক হিসেবে সরফরাজ তিন ফরম্যাট মিলিয়ে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোট ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে। তার অধিনায়কত্বে পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছিল এবং দল টানা ১১টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের একটি দারুণ বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল।

ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিল ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সরফরাজের নেতৃত্বে পাকিস্তান ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে শিরোপা জাতীয় করে, যা তাঁর অধিনায়কত্বে পাওয়া বড় সফলতা। তার আগেই ২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তিনি ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং সেই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল — জুনিয়র ও সিনিয়র উভয় পর্যায়ে বিশ্বশিরোপা জেতা একমাত্র পাকিস্তানি অধিনায়কের কীর্তিই তিনি গড়েছেন।

ব্যক্তিগত রেকর্ডেও সরফরাজ আলাদা ছাপ তৈরি করেছেন। ২০১৯ সালে জোহানেসবার্গে এক টেস্টে ১০টি ক্যাচ নিয়ে তিনি পাকিস্তানের হয়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন। ২০১৬ সালে লর্ডসে শতরান করে তিনি পাকিস্তানের এমন একমাত্র উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে বিশেষ কীর্তি গড়ে তোলেন। তার পাকিস্তান জার্সিতে শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচ।

অবসরের সময় সরফরাজ আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছেন যে, পাকিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ছিল এবং ২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি—প্রতিটি মুহূর্তই তার কাছে স্মরণীয় থাকবে। তার এই বিদায় পাকিস্তানের ক্রিকেটে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

পিসিবি ও ভক্তরা এখন কৃতজ্ঞতাসহ তার সফল ক্যারিয়ারকে স্মরণ করবেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও পরে মাঠের বাইরেই তার অবদান দেখতে পাবেন।