ঢাকা | শুক্রবার | ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

১২ দিনে ইরানে ২৪ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার মাত্র ১২ দিনে ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইরনার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের তথ্য দেখিয়ে চলমান সংঘাতে দেশে গণহত্যার মতো বিস্তৃত ক্ষতি হয়েছে এবং বহু বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে এখন পর্যন্ত মোট ২৪ হাজার ৫৩১টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছে বসতবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন—১৯ হাজার ৭৭৫টি। দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪ হাজার ৫১১টি। এছাড়া স্কুল ৬৯টি, রেড ক্রিসেন্টের কেন্দ্র ১৬টি, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন ২১টি এবং ১৯টি অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়েছে।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রাণহানির খবর বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী এক হাজার দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ আহত রয়েছেন।

পটভূমি হিসেবে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। ওই সংলাপ ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২১ দিন চলে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরের দিনই, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে—যে অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান চালায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যুদ্ধের প্রথম দিনেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন; সেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং আনুমানিক চল্লিশেরও বেশি সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন—এই তথ্য ইরানি সূত্রে রিপোর্ট করা হয়েছে।

এই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। সূত্রে বলা হয়েছে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের কিছু মার্কিন ঘাঁটি এবং কিছু বেসামরিক স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করা হয়েছে।

ঘটনাগুলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং মানবিক সহায়তার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

সূত্র: ইরানা (রেড ক্রিসেন্টের তথ্যের উদ্ধৃতি) ও আল জাজিরা।