ঢাকা | বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলায় আহত

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধ এলাকার এক হামলায় আহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সরকারের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর আহত হননি এবং বর্তমানে কড়াকড়ি নিরাপত্তায় আছেন ও সুস্থতার দিকে রয়েছেন।

সরকারের উপদেষ্টা ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, তিনি আহত হওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই নির্ভরযোগ্য সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে মোজতবা খামেনি নিরাপদ ও ভালো আছেন। তবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদন এই হামলার ধরন বা বিস্তারিত তুলে ধরেনি, ফলে পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণ স্বচ্ছতা এখনও পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও যুদ্ধে জড়িত পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারনের আশঙ্কা রয়েছে। মোজতবা খামেনিকে সম্প্রতি জরুরি ওই অধিবেশনে ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। ওই পদে ওঠার পটভূমিতে ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার বাসভবনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় প্রয়াত হয়েছে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি; সেই ঘটনায় খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং কয়েকজন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন, যার ফলে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।

ব্যক্তিগতভাবে মোজতবা খামেনি আগে কখনো সরকারি দায়িত্বে যোগ দেননি কিংবা নির্বাচনে অংশ নেননি। তবু তিনি প্রভাবশালী একটি ব্যক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন থেকেই ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে ইসলামের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও প্রভাবই তার নেতৃত্বের মূল শক্তি হিসেবে দেখা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন, যা তাঁর কঠোর নীতিমালা প্রতিফলিত করে।

বর্তমানে মোজতবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও, চলমান সংকটাপন্ন অবস্থায় তার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বাধীন নীতির কারণে নতুনভাবে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত প্রশ্ন উথিত হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভুল ও বিস্তারিত তথ্য উপলব্ধ হলে তা যে ভাবে দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন সর্বাধিক নজরকাড়া বিষয়।