উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাউন্ড অফ ১৬-এ ইতালির একমাত্র প্রতিনিধি আতালান্তার ব্যাপক আটপৌরে পরাজয় হয়ে গেল মঙ্গলবার রাতে জিউইস স্টেডিয়ামে। হ্যারি কেইনকে বিশ্রামে রেখে খেলায় নেমে বায়ার্ন মিউনিখ পুরো ম্যাচ জুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ৬-১ ব্যবধানে বিশাল জয় তুলে নেয়, যার ফলে ফিরতি লেগের আগেই তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা প্রায় নিশ্চিতের মতো দেখাচ্ছে।
খেলার প্রথম থেকে বায়ার্ন আক্রমণে ছিল নিষ্ঠুর। মাত্র ১২ মিনিটে ক্রোয়াট ডিফেন্ডার জোসিপ স্ট্যানিসিচ চমৎকার একটি সুযোগ থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই বক্সের বাইরে থেকে নিপুণ আড়াআড়ি শটে মাইকেল ওলিসে ব্যবধান বাড়ান। ২৫তম মিনিটে ওলিসের সাহায্যে বক্সে ঢুকেই তৃতীয় গোলটি করেন সার্জি গানাব্রি, ফলে মাত্র প্রথম সার্ভেইর মধ্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় ঝুলিতে চলে আসে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গানাব্রির আরেকটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে না এলে বিরতির আগেই স্কোর আরও বাড়তে পারত বায়ার্নের জন্য।
দ্বিতীয়ার্ধে বায়ার্নের আক্রমণভঙ্গি অব্যাহত ছিল। ৫২ মিনিটে কলম্বীয় তারকা লুইস দিয়াজের সরাসরি সহযোগিতায় নিকোলাস জ্যাকসন নেটে নাম তোলেন। ১২ মিনিট পর নিজস্ব তীব্র গতির ফুটবল ও শুটিংয়ে মাইকেল ওলিসে তার জোড়া গোল পূর্ণ করেন। বদলি হয়ে নামা জামাল মুসিয়ালাও সময় নষ্ট না করে জ্যাকসনের এক দারুণ পাস থেকে শান্দার ফিনিশিং করে স্কোরলাইন ৬-০ করেন।
আতালান্তার জন্য ম্যাচটি ছিল চরম হতাশাজনক। পুরো খেলায় তাদের বলদখল ছিল ত্রুটিপূর্ণ — টাকতে ছিল ৩০ শতাংশেরও কম — এবং আক্রমণের সংখ্যা ছিল সামান্য, মাত্র আটটি মূহুর্ত তারা গতি তৈরি করতে পেরেছিল। ম্যাচের যোগের সময়ে মারিও পাসালিচ একটি গোল করে হলেও তা কেবল ব্যবধান কমিয়ে আনার কাজই করেছে।
পরিসংখ্যানও বায়ার্নের একদম সুবিধার কথা বলছে: দলের বিপরীতে থাকা ২৫টি শটের মধ্যে ১৩টি সরাসরি লক্ষ্যে ছিল এবং প্রতিপক্ষকে সারাক্ষণ চাপে রেখে তারা ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। এই প্রভাবশালী জয় বায়ার্নকে আবারও শিরোপার প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ফিরতি লেগ ১৮ মার্চ বায়ার্নের নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেটা আতালান্তার জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে থাকবে — প্রথম লেগে সৃষ্টি করা বিশাল ব্যবধান কাটিয়ে উঠানো এখন প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ইউরোপীয় মঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখ তাদের রাজকীয় ফর্ম আরেকবার প্রমাণ করল।














