ঢাকা | বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

লামিনে ইয়ামালের শেষ মুহূর্তের জাদু, হার এড়াল বার্সেলোনা

সেন্ট জেমস প্যর্কে এক চরম নাটকীয় রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের রোমাঞ্চ আবারও উন্মোচিত হলো। মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোয় প্রথম লেগে নিউক্যাসল ইউনাইটেড দীর্ঘ সময় জয়ের গন্ধ পেলেও ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে লামিনে ইয়ামালের পেনাল্টি বার্সেলোনাকে হার থেকে বাঁচিয়ে দিল।

ম্যাচের অধিকাংশ সময় ধরে ঘরের মাঠেই আক্রমণাত্মক খেলা খেলেছে নিউক্যাসল। অসাধারণ এক লম্বা লড়াইয়ের পর ৮৬তম মিনিটে হার্ভি বার্নেস দুর্দান্ত এক গোলে গ্যালারি মাতান এবং সেখানকার সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা জেগে উঠে। উপস্থিত হয়ে ছিলেন ক্লাবের পুরনো নায়ক টিনো আসপ্রিলাইও, যিনি সেই আনন্দ ভাগাভাগি করছিলেন।

কিন্তু জয়োল্লাস খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। সদ্য যোগ করা সময়েরই শেষ মুহূর্তে বার্সেলোনার বদলি দানি ওলমো বক্সের ভেতরে ফাউল হন বলে নজর হয় এবং রেফারি পেনাল্টির ইশারা করেন। কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয় কেবল ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামালের কাঁধে। তিনি ঠাণ্ডা মাথায় পেনাল্টি নিয়ন্ত্রণ করে জালে বল পাঠান এবং সঙ্গে সঙ্গে রেফারির শেষ সাইরেন বাজে—স্কোর ১-১।

এই ফলের ফলে দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াই এখন সমতায় এসেছে এবং চূড়ান্ত নাথের ফয়সালা হবে আগামী বুধবার ন্যু ক্যাম্পে বাংলাদেশ সময় ম্যাচ শুরুর সময়।

বার্সেলোনার প্রধান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক ম্যাচ পরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানালেন, সামগ্রিকভাবে দলের খেলাটা প্রত্যাশানুযায়ী যায়নি; বলের দখল বারবার হারিয়েছে এবং কিছু সাধারণ ভুল হয়েছে, যা নিউক্যাসল সুযোগ নিয়ে প্রসারিত করতে পেরেছিল। তবু বিপদের সময় রক্ষণভাগের ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে তিনি প্রশংসা করেন—যা দলের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বরাবরের মতো এবারের ম্যাচটিও প্রমাণ করল, চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা কখনোই ফুরোয় না। দ্বিতীয় লেগে দুটো দলই নিজেদের ভুল ঠিক করে পরের রাউন্ডে পৌঁছানোর তাগিদ নিয়েই নামবে, আর ইউরোপের এই রোমাঞ্চ দেখা যাবে আরও এক সপ্তাহ ধরে।