ঢাকা | বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় দেড় বছর পর ডলারের দাম বাড়ল

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগাম এলসির দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহে বাড়তি প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই হঠাৎ দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

সোমবার থেকে ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে হারের পরিবর্তন এনেছে। এতদিন যেখানে প্রতি ডলার 122 টাকা 25 থেকে 35 পয়সায় কেনা হচ্ছিল, তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ 122 টাকা 90 পয়সায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক বাজার ও খোলা বাজারেও ডলারের দর সংস্হিতভাবে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে 122 টাকা 55 পয়সায়; যেখানে আগের দিন এই দর ছিল 122 টাকা 37 পয়সা। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের দর 122 টাকা 30 থেকে 40 পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছিল।

খোলা বাজারে নগদ ডলারের দরও বাড়ে—অতীতে যেখানে নগদ বিক্রি হচ্ছিল 124 টাকা 50 থেকে 60 পয়সায়, সেখানে এখন তা 125 টাকা 70 থেকে 80 পয়সায় যাচ্ছিল। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে খোলা বাজারে গুরুত্বপূর্নভাবে দর বাড়তে থাকে।

ব্যাংক সূত্ররা বলছেন, বর্তমানে প্রবাসী আয় কিনতে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ 122 টাকা 90 পয়সা দিচ্ছে। এর ফলে আমদানিতে কার্যকরী ডলারের দাম প্রায় 123 টাকার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছে; যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় (প্রায় 122 টাকা 50 পয়সা) কিছুটা বেশি।

আমদানিকারকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কেন্দ্র করে ব্যাংকগুলো হঠাৎ করে আমদানিতে ডলারের দাম প্রায় 50 পয়সা বাড়িয়েছে, ফলে আমদানির খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচ ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের মূল্যে প্রতিফলিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দরও বেড়েছে—গত 3 মার্চ প্রতি ডলারের গড় মূল্য ছিল 122 টাকা 33 পয়সা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে 122 টাকা 58 পয়সায়। বাজারে চলমান অস্থিরতা থাকায় ডলারের দর ভবিষ্যতেও চলমান জটিলতা ও আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভর করবে।