ঢাকা | বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

একনেক অনুমোদন: ১০৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার প্রকল্পে রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি মহাসড়ক দুই লেনে প্রশস্ত হবে

সরকার পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বড় পরিবর্তন আনছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে ‘রাঙামাটি (মানিকছড়ি)–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নীতকরণ’ প্রকল্প। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা বাস্তবায়িত হলে বাদামি পাহাড়ি এই সড়কটি আধুনিক ও নিরাপদ মহাসড়কে রূপ নেবে।

প্রকল্প অনুযায়ী বর্তমানে মাত্র ১২ ফুট প্রশস্ত এক লেন সড়কটিকে ১৮ ফুট প্রশস্ত দুই লেনে উন্নীত করা হবে। মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬১.৫ কিলোমিটার গ্রাসে এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি পুরোদমে সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি নতুন করে ৮৫টি কালভার্ট নির্মাণ ও বিদ্যমান ১৩টি কালভার্ট সম্প্রসারণের কাজ করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রায় ৮০ হাজার গাছ রোপণের ব্যবস্থা থাকবে।

সরকারি তহবিল থেকে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের জানুয়ারি এবং সম্পন্ন করার লক্ষ্য ২০২৯ সালের ডিসেম্বর। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশের সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, রাঙামাটি–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি সড়কটি পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুট; বর্তমান সরু আকৃতি ও তীক্ষ্ণ বাঁকের কারণে এখানে দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি বেশি ছিল। তিনি জানান, “গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিক হলে যাত্রী ও মালবহন নিরাপদ হবে এবং দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে।”

স্থানীয়রা প্রকল্পের সিদ্ধান্তকে স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন। নিয়মিত চলাচলকারী ট্রাকচালক অজয় আসাম বলেছিলেন, “সড়ক প্রশস্ত হলে আমরা অনেক নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারব, দুর্ঘটনা কমবে।” অটোরিকশা চালক মো. মিজানও বলেন, “যোগাযোগ উন্নত হলে এলাকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে।”

রাঙামাটির মানিকছড়ি উপজেলা ও সচেতন নাগরিক অবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “প্রতিদিন এই সড়কে চলাচলে তীক্ষ্ণ বাঁক ও পাহাড়ি ঢাল আমাদের ভীত করত। বড় যানবাহন চলাচলের ফলে দুর্ঘটনা হওয়া স্বাভাবিক ছিল। এখন সড়ক প্রশস্ত হওয়ার খবর শুনে আমরা অনেক安心।” নানিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান যোগ করেছেন, “চার দশক ধরে সড়কটি অবহেলিত ছিল; সংস্কারের পর প্রতিদিনকার যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কটির আধুনিকায়ন কেবল দুর্ঘটনা কমাবে না, বরং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির মধ্যে পণ্য ও মানুষ দ্রুততরভাবে চলাচল করতে পারবে। ফলত কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও পর্যটন খাতের দ্রুত উন্নয়ন হবে — বিশেষ করে সাজেকসহ পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সংযোগ সহজ ও আরামদায়ক হবে।

প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে—এটাই সংশ্লিষ্টদের আশা।