ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি সংকট নেই, দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: প্রতিমন্ত্রী

দেশের জ্বালানি তেলের কোনো সংকট না থাকায় আপাতত দাম বাড়ানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। মার্চ মাসে যে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি, এবং মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছিল সেটি দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা যাবে। সরকার ইতোমধ্যে এপ্রিল ও মে মাসের পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া, বিকল্প উৎস হিসেবে আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানির পরিকল্পনাও চলছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে তেল সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ভারতীয় সরকারের সঙ্গে অকপট অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। আমাদের পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টন তেল নিয়মিত আসে। কোনও সুযোগ থাকলে তারা বেশি সরবরাহ দিতে পারে এ জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, পেট্রোল ও অকটেনের নিরবিচ্ছিন্ন আমদানি না থাকলেও কিছু এলাকার পাম্পে অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘ লাইন দেখতে পাওয়া যায়। অসাধু চক্রের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী দরকার হলে জনদুর্ভোগ এড়াতে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, রাইড শেয়ার চালকদের সুবিধার্থে আজ থেকে প্রতিদিন ৫ লিটার করে তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, বাংলাদেশে অবস্থিত কূটনীতিক মিশনের যানবাহনে জ্বালানি তেল গ্রহণের সীমা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে, মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহের সীমা ২ লিটারে থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। অন্যান্য যানবাহনের রেশনিং ব্যবস্থা পর্যালোচনার বিষয়টি এখন চিন্তার মধ্যে রয়েছে।

সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক ৯,০২২ টন ডিজেল, ১,০৭০ টন পেট্রোল ও ৯১৩ টনের অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে, এবং সরবরাহ বৃদ্ধি নিয়ে পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।