ঢাকা | মঙ্গলবার | ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২১শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

প্রতি গানে ২৫–৩০ লাখ রুপি: উপমহাদেশের গ্রহণযোগ্যভাবে সবচেয়ে দামি নারী কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল

ভারতীয় সংগীতের আঙিনায় আজ শ্রেয়া ঘোষাল এক আলাদা দিকনির্দেশনা সৃষ্টি করেছেন। মধুর কণ্ঠ ও বিন্যাসের জাদু ছাড়াও প্রতিটি গানের রেকর্ডিংয়ের জন্য তিনি বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ লাখ রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন—যা তাঁকে উপমহাদেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নারী গায়িকাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দৃশ্যত আর্থিক মাপকাঠিতেও তিনি এখনকার সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী নামগুলোর মধ্যে; নির্মাতা-সংগীত পরিচালক এ. আর. রহমানের ঠিক পরে অবস্থান করছেন এবং নারী শিল্পীদের মধ্যে সুনিধি চৌহানকে পেছনে রেখে শীর্ষে উঠেছেন।

শ্রেয়ার সাদামাটা শুরু ছিল, কিন্তু নিষ্ঠা ও প্রতিভার মাধ্যমে তিনি দ্রুত উঠে এসেছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’ জিতে যখন পথচলা শুরু করেন, তখনই বহু নজর কাড়েন। নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি তাঁর ভীতি-উদ্দীপক কণ্ঠ শুনে তাঁকে সুযোগ দেন—ফলত: সিনেমা ‘দেবদাস’-এর গান গেয়ে রাতারাতি দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের প্রিয় মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের পেশাদার ক্যারিয়ারে শ্রেয়া বাংলা, হিন্দি ও বিভিন্ন দক্ষিণ ভারতীয় ভাষাসহ প্রায় ২০টি ভাষায় ৩ হাজারেরও বেশি গান কলাকুশলীদের সঙ্গীতভাণ্ডারে যোগ করেছেন। প্লেব্যাক গেয়েই তাঁর জনপ্রিয়তা এতদূর পৌঁছেছে যে আজ বহু নির্মাতা ও সংগীত পরিচালক কাজ করার জন্য প্রথমেই তাঁর নাম ভেবে থাকেন।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক কনসার্ট, স্টেজ শো এবং জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-র বিচারকত্ব করে নিরবচ্ছিন্নভাবে বড় আয়ের উৎস তৈরি করেছেন। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পদ প্রায় ২৪০ কোটি রুপি বলে গণ্য করা হয়। জীবনযাপনে শ্রেয়া একটি সুশৃঙ্খল ও বিলাসবহুল ছাপ রেখেছেন—মুম্বাই ও কলকাতায় তাঁর নিজস্ব ফ্ল্যাট ও বাড়ি রয়েছে, এবং গাড়ির সংগ্রহে বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও রেঞ্জ রোভার স্পোর্টের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড শামিল আছে।

ব্যক্তিগত জীবনে ওরাও সমানভাবে স্থিতিশীল—২০১৫ সালে নিজ বাল্যবন্ধু শিলাদিত্য সান্যালের সঙ্গে তিনি বিবাহবদ্ধ হন এবং দম্পতিকে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। কঠোর পরিশ্রম, পেশাদার নিষ্ঠা ও স্টাইলিশ উপস্থিতির সমন্বয়ে শ্রেয়া ঘোষাল শুধু এক সফল শিল্পী নন, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎসও হয়ে উঠেছেন। আজ তিনি কেবল একটি নাম নন—উপমহাদেশীয় সংগীতাঙ্গনের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড।