অবশেষে দীর্ঘ সময়ের হতাশাজনক পরাজয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদ নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করে ফিরেছে। লা লিগার এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে তারা সেল্টা ভিগোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে। তার দলের অনলে ভাগ্যগুণে পাওয়া এই জয় রিয়াল শিবিরে স্বস্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে, তবে ম্যাচের পুরোটাজুড়ে রিয়ালকে দেখা গেছে খানিক ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স। ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয় শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ফেদে ভালভার্দের নাটকীয় গোলে।
আন্তর্জাতিক ইনজুরির কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই মাঠে নামতে হয় রিয়ালকে। তারা ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলেছে এবং বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে আক্রমণে ভিন্ন সক্রিয়তা দেখিয়েছে। ম্যাচের ট্যাঙ্কে বলের দখলের হার ৬৩% থাকলেও, গোলের খুব একটা ধার দেখাতে পারেনি রিয়াল। বরং প্রতিপক্ষের চাপ বাড়াতে গিয়ে রক্ষণভাগকে বেকায়দায় ফেলেছিল সেল্টা ভিগো। রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া তার অসাধারণ দক্ষতায় অনেকবার ম্যাচের ফল বদলে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।
প্রথমার্ধে খেলাটা জমে ওঠে। ১১ তম মিনিটে রিয়ালকে এগিয়ে নিয়ে যান ফরাসি মিডফিল্ডার অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি। লে গ্যাঞ্জের থেকে পেয়েছেন দারুণ এক ক্রস, আর এক জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন। তবে এই লিড বেশি চটি থাকেনি। ২৫ তম মিনিটে সেল্টার উইলিয়ট সোয়েডবার্গের পাস থেকে বোরজা ইগলেসিয়াস সমতা ফেরান। প্রথমার্ধের শেষ পর্যায়ে সোয়েডবার্গের আরও এক দারুণ শট কোর্তোয়া অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দিলে, উভয় দল সমতায় বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের খেলা ছিলো ছন্দহীন। তারা ৮৭ তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার মুখে পড়ে, যখন সেল্টার ইয়াগো আসপাসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচ ড্র হওয়ার দিকে এগোচ্ছিল, তখনই নাটকীয়তার চূড়ান্ত মুহূর্তে উপস্থিত হন ফেদে ভালভার্দে। যোগের সময়ের (৯০+৫) শেষ মুহূর্তে তিনি বক্সের বাইরে থেকে এক শট নেন, যা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লাগলেও দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে ঢুকতে সক্ষম হয়। এই গোলের মাধ্যমে রিয়াল আগের সেই স্পৃহা ফিরে পায় এবং উল্লসিত হয়।
পুরো ম্যাচে রিয়াল ১৪টি শট নেয়, তবে গোলের লক্ষ্যে যায় মাত্র ৩টি। এই জয় প্রভাব ফেলেছে লা লিগার শিরোপা দৌড়ে, যেখানে তারা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছ থেকে এক ম্যাচ কম খেলেও পয়েন্টে পিছিয়ে। বর্তমানে ২৭ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল থাকছে দ্বিতীয় স্থানে, আর শীর্ষে রয়েছে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনা। এখন দেখার বিষয়, রিয়াল তাদের এই জয়ের ধারাগুলো বজায় রাখতে কতটা সক্ষম হয়।














