চলতি মার্চ মাসের শুরুতেই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে অপ্রত্যাশিত দ্রুততা দেখা গেছে। মাসের প্রথম তিন দিনে প্রবাসীরা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ৫৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার — যার দৈনিক গড় আনুমানিক ১৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের মার্চের একই তিন দিনে রেমিট্যান্স ছিল মাত্র ২৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার, তাই এই বছরের শুরু আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৩০২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রতি উৎসাহ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় এই ঊর্ধ্বগতি সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল লেনদেন বাড়া এবং রেমিট্যান্স প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিও বড় ভূমিকা রেখেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী ছিল। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স অর্জন করেছিল, যা এক অর্থবছরে দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
অর্থনীতিবিদরা জানান, বর্তমান এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে পুরনো রেকর্ড ভেঙে রেমিট্যান্স আয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। রেমিট্যান্সের এ ধারাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও জানিয়েছে, এই ইতিবাচক প্রবাহ ধরে রাখতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।














