জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বছর বেশিরভাগ ব্যক্তিগত করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। বিশেষত ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিকদের ব্যতীত সকল ব্যক্তিগত করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করবেন।
এনবিআরের নির্দেশনা অনুসারে বুধবার, ৪ আগস্ট ২০২৫ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং ৪০ লাখেরও বেশি করদাতা ইতোমধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।
মাসভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের বিবরণ অনুযায়ী: আগস্ট ২০২৫—২৫১,৭৮৪ জন, সেপ্টেম্বর—৩০১,৩০২ জন, অক্টোবর—৪৫৪,০৭৬ জন, নভেম্বর—১,০৪০,৪৭২ জন, ডিসেম্বর—৯৭৮,১৯৮ জন, জানুয়ারি ২০২৬—৬৫৫,৩৬৩ জন, ফেব্রুয়ারি—২৯৪,৯৮৭ জন এবং মার্চ মাসের প্রথম চার দিনে ৩৬,৭০০ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছর নির্ধারিত সময়ে মোট ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬ শত ৫৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
দাখিলকৃত রিটার্নের লিঙ্গভিত্তিক বিবরণে দেখা যায় মোট ২৮,৬৬,৬১৮ জন পুরুষ এবং ১১,৩৬,০০৩ জন নারী করদাতা রিটার্ন দিয়েছেন। আয় উৎসভিত্তিক বিভাজন অনুযায়ী বেতনভিত্তিক আয় দেখিয়েছেন ১৬,১০,৭৫০ জন পুরুষ ও ৪,৭৮,৫৬৬ জন নারী; বাড়িভাড়া থেকে আয় দেখিয়েছেন ১,৮৭,৭৫৪ জন পুরুষ ও ৮৪,৪৭৭ জন নারী। করযোগ্য সীমার নিচে আয় দেখানো হয়েছে ১৪,৩৫,৬৩০ জন পুরুষ ও ৭,৬৫,১৯৭ জন নারীর ক্ষেত্রে।
আয়বর্গভিত্তিক অন্য বিবরণে দেখা যায়: ৫ লাখ টাকার বেশি কিন্তু ১০ লাখ টাকার কম আয় দেখিয়েছেন ৫৩৪,৯৫৪ জন পুরুষ ও ১৯৩,৮৩৭ জন নারী; ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে আয় দেখিয়েছেন ১,৬৪,৯৮৩ জন পুরুষ ও ৪৭,৫৩২ জন নারী; ২০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকার মধ্যে আয় দেখিয়েছেন ৫৪,২১২ জন পুরুষ ও ১১,৪৫৫ জন নারী; আর ৪০ লাখ টাকার বেশি আয় দেখিয়েছেন ২৯,০৮০ জন পুরুষ ও ৫,১১৭ জন নারী। সম্পদ সংক্রান্ত সারচার্জ আরোপযোগ্য হওয়ায় ৩৯,৩৬৩ জন পুরুষ এবং ১১,০৬৫ জন নারী করদাতা সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও, তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন এবং রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ই-মেইলে রেজিস্ট্রেশন লিংক এবং ওটিপি (OTP) পাঠানো হয়; এসব ওটিপি ব্যবহার করে বিদেশেও তারা সহজেই ই-রিটার্ন দাখিল করতে সক্ষম হচ্ছেন। পাশাপাশি করদাতাদের প্রতিনিধিরাও তাদের অনুমোদন পেলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
ই-রিটার্ন দাখিলের পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণত কোনো কাগজপত্র আপলোড করার প্রয়োজন পড়ে না; করদাতারা তাদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের সঠিক তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করে অনলাইনে কর পরিশোধ করে সম্পূর্ণ করতে পারেন। পেমেন্ট করা যায় ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) দিয়ে। রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ও আয়কর সনদ প্রিন্ট করার সুবিধাও থাকে। যদি দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো ভুল পাওয়া যায়, তাহলে দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে আবার দাখিল করা যাবে—এ পর্যন্ত ৫৬ হাজারেরও বেশি করদাতা ২০২৫-২৬ কর বছরের সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করেছেন।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য এনবিআর কল সেন্টার: ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ ডায়ালে ফোন করে করদাতারা তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সহায়তা পাচ্ছেন। এছাড়া www.etaxnbr.gov.bd এর eTax Service অপশনের মাধ্যমে লিখিতভাবে সমস্যার সমাধানও পাওয়া যাচ্ছে। সারাদেশের করাখানা ও ই-রিটার্ন হেল্প-ডেস্ক অফিস সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল ও পরামর্শ সেবা প্রদান করছে।
জরিমানা এড়াতে এনবিআর ইতোমধ্যে SMS এর মাধ্যমে করদাতাদের ই-রিটার্ন দাখিলের অনুরোধ জানিয়ে এসেছে। এনবিআর সকল সম্মানিত করদাতাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছে যে, ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখের মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে দাখিল করুন।














