ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজামৌলির ‘বারাণসী’—এন্টার্কটিকায় শুটিং, ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে প্রথম

বিস্তৃত ক্যানভাসে ফিরে আসছেন এস এস রাজামৌলি। ‘বাহুবলী’ ও ‘আরআরআর’-র বিরাট সাফল্যের পর পরিচালক এইবার তাঁর পরবর্তী মহাকাব্যিক ছবি ‘বারাণসী’-র শুটিং নিয়ে নতুন দিগন্ত ছুঁতে যাচ্ছেন—বরফের মহাদেশ এন্টার্কটিকায়।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জন্মসাক্ষী টকশো ‘দ্য টুনাইট শো উইথ জিমি ফ্যালন’-এ এ ঘোষণা দিয়েই চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা জানান, হায়দরাবাদ, ওডিশা ও কেনিয়ার শুটিংর পর ছবির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যধারণ হবে এন্টার্কটিকায়। কোনো ভারতীয় সিনেমা আগে সেখানে শুটিং করেনি; বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসেও খুবই কম কয়েকটি ছবিরই সেখানে কাজ হয়েছে—‘সাউথ অব স্যানিটি’, ‘দ্য ওডিসি’ ও ‘ভাইরাস’ এর মত ক’টি উদাহরণ আছে। ‘বারাণসী’ সেই তালিকায় চতুর্থ এবং প্রথম ভারতীয় হিসেবে নাম লেখাতে চলেছে। বিশেষ কিছু অংশ করা হবে রস আইস শেলফের মতো দুর্গম বরফাচ্ছাদিত লোকেশনে।

রাজামৌলির এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টটি রামায়ণ মহাকাব্যের ছায়ায় আবর্তিত, কাহিনি ছোঁয়ে যাচ্ছে ত্রেতা যুগ থেকে কলি যুগ—হাজার বছরের সময়জুড়ে। গল্প শুরু হয় প্রাচীন বারাণসীতে একটি বিশাল গ্রহাণু আছড়ে পড়ার সঙ্গে, যা পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রাখতে পারে। পৃথিবী বাঁচানোর দায় নিয়ে নায়ক রুদ্র নানা সময় ও মহাদেশ ঘেঁষে যাত্রা করবেন—এতদ্ব্যতীত লড়াই দেখতে পাওয়া যাবে এন্টার্কটিকা থেকে আফ্রিকার জঙ্গল পর্যন্ত।

চিত্রনাট্যে নায়ক রুদ্রের ভূমিকায় ছিলেন সুপারস্টার মহেশ বাবু, আর ‘মন্দাকিনী’ চরিত্রে আছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ছবির প্রধান খলনায়ক ‘কুম্ভ’ হিসেবে পর্দায় দেখা যাবে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনকে।

প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ছবিটির শুটিং প্রায় ১৪ মাস ধরে চলছে এবং এখনও আনুমানিক ছয় মাস কাজ বাকি রয়েছে। দীর্ঘ ছয়-সাত বছরের বিরতির পর ভারতীয় সিনেমায় ফেরার ক্ষেত্রে ‘বারাণসী’ তাঁর জন্য বড় প্রত্যাবর্তন হবে। সব ঠিক থাকলে এই মহাকাব্যিক ছবি ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

বড় পরিসরের লোকেশন, রামায়ণিক আখ্যান এবং আন্তর্জাতিক মানের শুটিং—এস.এস. রাজামৌলির এই ছবিটি দর্শকদের কাছে এক নতুন সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা হিসেবে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছে।