পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পৌর সদরের বোয়াইলমারী হাটসহ কয়েকটি হাট-হাটবাজার ইজারায় ব্যাপক অনিয়ম ও সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, টেন্ডার বিধিমালা লঙ্ঘন করে বাজারমূল্যের তুলনায় খুবই কম দামে ইজারা দেওয়া হচ্ছে, ফলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, চলতি বছরে কাশিনাথপুর ও রসুলপুর (বনগ্রাম) হাটের নিলামেও স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা হয়েছে না। কাশিনাথপুর হাটে মাত্র দুইটি টেন্ডার জমা পড়ে এবং রসুলপুরে তিনটি—এখানে টেন্ডারদাতারা সমঝোতা করে কম দরেই নিলাম শেষ করেছে বলে আওয়াজ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছে, এই দুইটি হাটে সরকার অন্তত ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।
বোয়াইলমারী হাটের ইজারা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ আরো তীব্র। এ হাটের জন্য চলতি নিলামে দরপত্র জমা পড়েছে ৩টি হলেও সিডিউল বিক্রি করা হয়েছিল ৭টি। গত বছরের ইজারা মূল্য ছিল ৯০ লাখ টাকা; এবার নিলাম মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকায়। বিষয়টি স্থানীয়রা ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করছেন এবং অভিযোগ করেন, ইজারা মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
টেন্ডার বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি দরপত্রের সঙ্গে নির্ধারিত পরিমাণ ব্যাংক ড্রাফট লাগবে। তবে জমা পড়া তিনটি দরপত্রের মধ্যে কেবল একটির সঙ্গে ব্যাংক ড্রাফট পাওয়া গেছে; বাকি দুটি ব্যাংক ড্রাফটবিহীন। স্থানীয়রা বলছেন, এ কারণেই দুইটি দরপত্রকে অযোগ্য ধরে একক বৈধ দরদাতাকে এ সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
নাগরিক ও ব্যবসায়ী নেতারা আশঙ্কা করছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘লোক দেখানো’ দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছে যাতে দর প্রতিদ্বন্দ্বিতা কার্যত ভেস্তে যায় এবং একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ সুবিধা পায়। ত্রুটিপূর্ণ টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন।
পাবনা জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, ‘‘বিগত তিন বছরের টেন্ডার দর গড় করে নিলাম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই গড়ের তুলনায় যদি নিলামের মূল্য বেশি হয়, তখন সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়। এখানে তাই হয়েছে—গড় মূল্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’’
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ডাঃ এ. এন. এম. বজলুর রশিদ বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী হাট-বাজার, সায়রাত মহাল, বালু মহাল ইত্যাদি লিজ দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেছেন, নীতিমালায় সংশোধন প্রয়োজন, কারণ টেন্ডার সমঝোতা করে কিছু অপকর্মী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের পকেটে টাকা তুলে নিচ্ছে—এই ধরনের কুশাসনে সরকারের ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করে দর বাড়ানোর চেষ্টা হওয়ার কথা বিবেচনায় নেওয়া উচিত এবং অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টরা দৃষ্টান্তমূলকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা অনতিবিলম্বে একটি স্বাধীন ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চান। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী এ বিষয়ে ন্যায্য তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করছে।














