ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে এসে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন এবং প্রবাসীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার জেরে ইরানের ওপর আঘাতের পর অনেকগুলো মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন এবং আটকে পড়া প্রবাসী কর্মী—রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দেখভাল ও সুবিধাসাধনের জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

রুমনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে বিমান প্রতিমন্ত্রী সকাল থেকেই বিমানবন্দরে অবস্থান করে আটকা পড়া যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও তদারকি করছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং প্রবাসীদের সহায়তায় ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালু রাখা হয়েছে।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনটি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে অফিসে এসে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলুকে নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্পের পরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপরতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি পুরো দেশে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জরুরি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করার জন্য এক লাখ দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রী জননিরাপত্তার স্বার্থে স্বেচ্ছাসেবক তৈরির প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে, তার ফলে দেশে জ্বরগ্রস্ততা বা জ্বালানী সঙ্কট সৃষ্টি না করতে পূর্বসতর্কতা গ্রহণ করতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতির কঠোরতা ও আন্তর্জাতিক টালমাটালের মাঝেও প্রধানমন্ত্রীর তৎপর তদারকি প্রশাসনিক কাজে নতুন গতিসঞ্চার করেছে; একুশে পদক প্রাপকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানসহ অনুষ্ঠানের কাজ দ্রুত ও সুচারুভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিয়ে আটকা পড়া প্রবাসীদের সুরক্ষা ও দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে বলেও সূত্রটি যুক্ত করেছে।