টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে টানা তিন ম্যাচ হেরে শূন্য হাতে বিদায় নেয়া শ্রীলঙ্কা দলের কোচ সনৎ জয়সুরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাঁচ রানে হারের পরই জয়সুরিয়া এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন।
সুপার এইটে একটিও জয় না পাওয়া ও সিরিজ ধর্ষিত হারের পর লঙ্কান ড্রেসিংরুমে বিরূপ পরিবেশ বিরাজ করছিল। জয়সুরিয়া জানিয়েছেন, এখন দলের সামনে নতুন কোনো কণ্ঠস্বরের প্রয়োজন, তাই তিনি মনে করেন দলে নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া উচিত।
জয়সুরিয়া ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে শ্রীলঙ্কা দলের পূর্ণকালীন প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেছেন, তিনি চেয়েছিলেন যেন একটি বড় সাফল্য দিয়ে বিদায় নিতে পারেন — বিশেষত ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ হওয়ায় সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগকে তিনি অনবদ্য মনে করেছিলেন। কিন্তু দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোট (যেমন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাথিশা পাথিরানা) পরিকল্পনা নষ্ট করে দিয়েছে এবং তাই তিনি মর্মাহত।
কিছুদিন আগে ইংল্যান্ড সিরিজের সময় থেকেই জয়সুরিয়া দীর্ঘকালীনভাবে কোচিংয়ে থাকার ইঙ্গিত দেননি। যদিও তার চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী জুন পর্যন্ত বলছে, তিনি আর দায়িত্বে থাকতে আগ্রহী নন। তিনি জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)–র সঙ্গে শীঘ্রই বসে আলোচনা করবেন এবং বোর্ড যেটাই সিদ্ধান্ত নিক, সেটিই সমর্থন করবেন।
আগামী ১৩ মার্চ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে সেটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে — এমন অবস্থায় দলের পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে বোর্ডেরও ভাবনা রয়েছে।
প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থতার গ্লানি থাকলেও জয়সুরিয়ার কোচিংয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি ঘটেছে। দেড় বছর আগের হয়তো আট-নয় নম্বরে থাকা ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে দলকে চতুর্থ স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি; টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে। নিজের সফলতাগুলো একা নিয়ে নিতে চাননি জয়সুরিয়া — তিনি বিশেষত সহকারী কোচিং স্টাফের কাজ ও সহযোগিতা উল্লেখ করে তাঁদের কৃতিত্ব তুলে এনেছেন।
সব মিলিয়ে জয়সুরিয়ার বিদায় এক মিলিত অনুভূতি জাগিয়েছে: একদিকে পারফরম্যান্সে হতাশা, অন্যদিকে গত কয়েক বছরে দলের উন্নতির স্বীকৃতি। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও নতুন কোচ নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখন গুরুত্বের সঙ্গে দেখার বিষয়।














