ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শুধু আমিরাতে ইরানের নজিরবিহীন হামলা: ১৩৭ মিসাইল, ২০৯ ড্রোন নিক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। রোববার সকালে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে এক নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরান একযোগে ১৩৭টি মিসাইল এবং ২০৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে—এটাই তাদের বর্ণনায় এই ‘ষষ্ঠ দফার’ অভিযানের মূল পরিসংখ্যান।

হামলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে আঘাত হতে এখন পর্যন্ত একজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। হামলার ফলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিমান চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

সকালে দুবাইতেও ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুবাইয়ের বিজনেস বে এলাকার আকাশে একটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হলে তার ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে জেবেল আলি বন্দর এলাকায় গিয়ে লাগামছাড়া আগুন এবং বিশাল ধোঁয়ার স্তূপ সৃষ্টি করে। স্থানীয় দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা এখনই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালাচ্ছেন।

ইরান বলেছে, এই হামলা তাদের পরিকল্পনার অংশ এবং তারা আরও কড়াকড়ি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে সেখানে যে দাবিগুলো করা হচ্ছে—যেমন ক্ষতিপূরণ বা প্রতিশোধের কড়া কারণ—সেগুলো সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি বলে সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে, ইরান একই সময় ইসরায়েলেও হামলা চালিয়েছে; সেখানে তাদের আঘাতে ৪০টিরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে ঘোষণাও এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলেও খামেনি-সম্পর্কিত ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে; প্রতিবেদন বলছে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখিয়েছে। পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে গভীর অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালাচ্ছে; তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। ঘটনাগুলো সম্পর্কে আরও তথ্য আসলেই রিপোর্ট চলবে।