দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকের উল্লেখযোগ্য উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৩১ শতাংশ কমে গেছে, যা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।
বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মোট ১৩৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৫৬০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস-এর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭৪টির শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে ৮৩টির দর কমেছে এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিষয়ক অনিশ্চয়তা শুরুতে বাজারে কিছু সতর্কতা সৃষ্টি করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশেষ করে ব্যাংকখাতের শেয়ারগুলোতে প্রবল কেনাকাটার মাধ্যমে সূচকের উত্থান গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল নীতিতে শিথিলতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে, যা বাজারের সাময়িক পরিস্থিতিকে ইতিবাচক করে তুলেছে।
লেনদেনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৭২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৩০ দশমিক ৯৭ শতাংশ কম। খাতভিত্তিক লেনদেনে ব্যাংক খাতই সবচেয়ে বেশি দখল রেখেছে, যা মোট লেনদেনের প্রায় ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত।
বিগত সপ্তাহে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন প্রদান করে মুনাফার শীর্ষে থাকলেও, কর্পোরেট বন্ড ও বিমা খাতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে সিএসইতে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার ৫৯৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সিএসইর প্রধান সূচকও আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে সপ্তাহ শেষ করেছে।














