ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় অসুবিধা হিসেবে দুধর্ষ দুর্নীতির সমস্যা দেখছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। এ ঝুঁকি মোকাবিলা করতে, সংস্থাটি কর, ব্যবসা এবং ব্যাংক খাতে পৃথক করে ন্যায়পাল নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।
সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিপিডির কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিন ও এরপর’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন সংস্থার গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
প্রবন্ধে তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের কারণে দুর্নীতির আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই কর, ব্যবসা ও বাজেট খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক ন্যায়পাল নিয়োগ অপরিহার্য, যা দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাজস্ব সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় ছিল বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ার মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাতের দিক থেকে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজস্ব আহরণ ১৫ শতাংশে উন্নীত করা, যেখানে অস্থায়ীভাবে ২০২৬ সালে ১০ শতাংশে উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্পদ কর সংযোজনের প্রস্তাব থাকলেও করের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
কর বৈষম্য কমানোর জন্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার সুপারিশ করেন, যারা নিয়মিত কর অবকাশ, কর ফাঁকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করবে। এর পাশাপাশি, ভ্যাটের ৮টি স্ল্যাব ধাপে কমিয়ে ৩টিতে আনার লক্ষ্যে এবং দীর্ঘমেয়াদে ২টির মধ্যে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া, এনবিআরের করঅবকাশ নীতির পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাব দেন, বিশেষ করে বিনোদন ক্লাব বা পুঁজিবাজারের মতো ক্ষেত্রে কর অবকাশ সুবিধা পুনর্মূল্যায়নের জন্য। ব্যক্তি ও ব্যবসা উভয়ের জন্য অনলাইন কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ফাঁকি রোধে চুক্তি ও এনবিআরে একজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের মতামত দেন। কর নীতি ও ব্যবস্থাপনার কাঠামো দুটোকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়, যেখানে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। নতুন এই সরকারের পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই প্রেক্ষাপটে, সিপিডি এই মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।
সংস্থাটি মনে করে, সরকারের শুরুতে ঘোষিত নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের যেন ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাব, আইনি জটিলতা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা বড় কারণ। তাই, বিকেন্দ্রীকরণ, জ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিসম্পন্ন নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, জাতীয় সংসদে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন বলে গুরুত্ব দেয়া হয়।
সিপিডি তাদের গবেষণার ভিত্তিতে মোট ১২টি অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাগুলো চিহ্নিত করেছে।














