মধ্যপ্রাচ্যে একজন ভয়াবহ যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে । ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার কারণে এই অঞ্চলে অশান্তি গভীরতর হয়ে উঠেছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন, তারা ইরানে ব্যাপক আক্রমণের জন্য প্রস্তুত। এর আগে একই দিনে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলের মুখপাত্ররা।
এই সাঁড়াশি অভিযানের জবাবে তেহরানও পাল্টা আঘাত হেনে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হেনেছে। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠায় কাতার প্রশাসন তাদের নাগরিকদের বাসার ভিতরে থাকার ও সব ধরনের সামরিক এলাকা থেকে নিরাপদ দূরে থাকতে সতর্কতা জারি করেছে।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। কাতার সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, দোহার বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বিস্ফোরণ হয়েছে, যার জন্য জনগনকে সতর্ক করে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
এক কড়া হুঁশিয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেবো এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবো। আমরা তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা নিশ্চিত করবো, এই অঞ্চলের ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীগুলো আর কোনওভাবে বিশ্ব বা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না। ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না—এটি অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা। এই শাসনব্যবস্থা খুব শিগগিরই বুঝতে পারবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও সামর্থ্য থেকে কেউ পালাতে পারে না।”
এদিকে, মার্কিন এই অভিযানকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে দেখে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ইরানের বৈধ লক্ষ্য হিসেবে পরিণত হয়েছে।” বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, কাতার তাদের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, মূলত এই অভিযান ইরানি শাসন ব্যবস্থা পতনের জন্য একটি চেষ্টা। বর্তমানে পুরো অঞ্চলটি এক গভীর অস্থিতিশীলতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ডুবে আছে।













