ঢাকা | শনিবার | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্পকে দেখিয়ে ২১ বিলিয়ন ডলার চাইলেন মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ওভাল অফিসে এক অঘোষিত বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে তিনি শহরের তীব্র আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি বড় পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং ফেডারেল সরকারের কাছে ২১ বিলিয়ন ডলার অনুদান চান।

মেয়র মামদানির প্রস্তাব অনুযায়ী কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে ১২ হাজার সাশ্রয়ী ভাড়া বা অনুবৃত্তমূলক আবাসন ইউনিট নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির বৃহত্তম আবাসন ও অবকাঠামো বিনিয়োগ হবে।

এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে জোর দেওয়া—প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আনুমানিক ৩০ হাজার ইউনিয়ন শ্রমিকের কাজ তৈরির আশা করা হচ্ছে। বৈঠকে মামদানি একটি প্রতীকী সংবাদপত্রের পাতা দেখান যার শিরোনাম ছিল ‘Trump to City: Let’s Build’ — এটি ১৯৭৫ সালের বিতর্কিত ‘Ford to City: Drop Dead’ শিরোনামের একটি ইতিবাচক পাল্টা ভাব বলে উপস্থাপন করা হয়।

সূত্র বলছে, মামদানির উপস্থাপনা থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছুটা উৎসাহপ্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করলেও 이번 বৈঠকে দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে কাজ করার সক্ষমতা ও কূটনৈতিক সহযো-গিতার আভাস দেখা গেছে।

আবাসন প্রস্তাব ছাড়াও বৈঠকে মানবাধিকার ও অভিবাসন সম্পর্কিত কিছু ইস্যুও উঠেছে। বিশেষত কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর আটক নিয়ে মামদানির অনুরোধের পর ট্রাম্প একদেশীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ঐ শিক্ষার্থী দ্রুত মুক্তিতে নিয়ে আসার আশ্বাস দেন।

দ্বিপক্ষ প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে অর্থায়ন, প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কাঠামো ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ফেডারেল স্তরে ২১ বিলিয়ন ডলারের মতো বড় অনুদান সত্যিই অনুমোদিত হবে কি না—সেটা এখনো অনিশ্চিত থেকে গেছে।

বৈঠকের পর মামদানি এক্সে লিখেছেন, “আজ বিকেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে আরও আবাসন নির্মাণে আমি আশাবাদী। দুই পক্ষ আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রকল্প ও অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।”

এখন মূল প্রশ্ন—এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কের আবাসন সংকট কতটা নিবারণ হবে এবং ফেডারেল অর্থায়ন পাবে কি না—তাতে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তগুলোই চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে।