ঢাকা | শনিবার | ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শেরপুরে নকল খাদ্য কারখানায় অভিযান, জরিমানা ও সিলগালা

শেরপুরের নকলায় অশুচি এবং অনিবন্ধিত সেমাই ও শিশুখাদ্য তৈরি করে আসছিল দুটি নকল খাদ্য কারখানার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিএসটিআইয়ের যৌথ অভিযানে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দুটি কারখানাকে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে সিলগালা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী এই অভিযানে অংশ নেন জেলা এনএসআই, শেরপুরের তথ্য অফিসার, নকলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানী, বিএসটিআই এর বিভাগীয় ফিল্ড অফিসার রাহাত আহমেদ, পুলিশসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। অভিযানে জালালপুর এলাকার আলিফ ফুড এন্ড বেকারী ও মিথিল ফুড প্রোডাক্টস নামে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়।

অভিযান চলাকালে উক্ত কারখানাগুলোর মালিকরা চাইলে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, যেমন অনুমোদনপত্র, পরিবেশ ছাড়পত্র বা বিএসটিআই এর অনুমোদন। পাশাপাশি, কারখানাগুলিতে পরীক্ষা ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, নোংরা জায়গায় বাইরে থেকে আনা খালি প্যাকেটে খাদ্যপণ্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।

অভিযানে আলিফ ফুড এন্ড বেকারী থেকে ৭১০ কেজি নকল ‘চেয়ারম্যান’ ব্র্যান্ডের সেমাই জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, মিথিল ফুড প্রোডাক্টস থেকে চিপস, চানাচুর ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভেজাল খাদ্যপণ্য উদ্ধার করা হয়। এসব খাবার সাধারণ খালি প্যাকেটে রাখা ও বস্তাবন্দী ছিল, যার মধ্যে ৮,৮২০ প্যাকেট ভেজাল চিপস অন্তর্ভুক্ত। একই কারখানা থেকে নকল আইসক্রিমও জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আফরিন এ্যানী বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য তৈরি ও জাল লোগো ব্যবহার অপরাধ। এই এলাকার ভোক্তা সুরক্ষার জন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে।’ তিনি আলিফ ফুড এন্ড বেকারীতে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং কারখানাটি সিলগালা করেন। অন্য কারখানায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

বিএসটিআই ফিল্ড অফিসার রাহাত আহমেদ বলেন, ‘বিনা অনুমোদন বা মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়া খাদ্য উৎপাদন বেআইনি। নকল বিএসটিআই লোগো ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’