সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইসরায়েল যাচ্ছেন। এটি তার দ্বিতীয় ইসরায়েল সফর, গত আট বছর আগে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সফরে তিনি ইসরায়েলিসংস্থাপন নেসেটে একটি বিশিষ্ট ভাষণ দেবেন, যা দুই দেশের বন্ধুত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মোদিকে তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে সম্মোধন করে এই সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক সফরের পর থেকে প্রযুক্তি, কৃষি এবং নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক বিশ্বব্যাপী আলোচনায় রয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইসরায়েল বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে তার অবস্থানের শক্তিশালী করেছে। এই সময় সরকারের অন্যতম বড় ক্রেতা ছিল ভারত, যেটি ইসরায়েলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ৩৪ শতাংশ কেনে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব ছিল ১৩ শতাংশ। ভারতের এই রপ্তানি নির্ভরতার ফলে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির এই সফর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্নক্ষেত্রের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করবে। এ ছাড়া নিরাপত্তা ছাড়াও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও চতুর্থ প্রযুক্তির বিষয়ে বেশ কিছু বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই সফর কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনমতেও কিছু ভিন্ন মত দেখা গেছে। দেশের এক অংশ এই বন্ধুত্বকে দেশের নিরাপত্তার জন্য অতি প্রয়োজনীয় মনে করলেও, অন্য অংশদলের ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান রক্ষায় এই সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক কেবল অস্ত্র বা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত Partnership, যা ভবিষ্যতেও শক্তিশালী হওয়ার প্রবণতা রাখে। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারতের সফরের সময় গৃহীত বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ এই সফরেও নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল বিশ্লেষকরা মনোযোগে রেখেছেন মোদির নেসেট ভাষণে, যেখানে তিনি ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়া সহ বিশ্ব কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করতে এই সফরের গুরুত্ব অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।













