ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপনে ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্রের এর বিভিন্ন উপাদান ও প্রযুক্তি সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (এসভিআর) এই দাবি করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ধরণের সতর্কবার্তা জারি করেছে, যেখানে তারা উল্লেখ করে যে এই কার্যক্রমের ফলে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্বের জন্য খুবই বিপজ্জনক হতে পারে।
মস্কো মনে করে, ইউক্রেনে পারমাণবিক আক্রমণের জন্য যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করছে এই দুই ইউরোপীয় দেশ, যদিও এসভিআর এর পক্ষ থেকে কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের দূতাবাস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়া War warning দিয়ে বলেছে— পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সংঘাতের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের চার বছর পূর্ণ হতে চলেছে, আর এই সময় কিয়েভের প্রতি পশ্চিমা নেতাদের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইউরোপে বিভাজন দেখা দিয়েছে, হাঙ্গেরি সম্প্রতি ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ এবং রাশিয়ার ওপর নতুন EU নিষেধাজ্ঞায় ভেটো দিয়েছে। এর বিপরীতে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন কিয়েভ সফর করে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা কোনোরকম সহায়তা পৌঁছাতে পিছপা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ও জি-৭ নেতারা এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন জোরদার করেছেন। একই সময়ে, রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা যুদ্ধের পরিবর্তিত পরিস্থিতি স্পষ্ট করে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন তাদের দোনেৎস্কের শেষ ২০ শতাংশ ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নয়।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দেশের জন্য যুদ্ধের ক্ষতি ও শহর-নগরীর পরিস্থিতি দেখিয়ে বলেছেন, তারা কখনোই মাতৃভূমিকে শত্রুর হাতে তুলে দেবে না। বর্তমানে কিয়েভের রাস্তায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত পরিস্থিতি এবং নিহত সৈনিকদের স্মরণে নীরবতা বিরাজ করছে।
অর্থনৈতিক ও জনবল সংকটের মাঝেও রাশিয়া ২০২৬ সাল অবধি ইউক্রেনে তাদের অভিযান চালিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞরা। সামরিক ব্যয় এক্ষেত্রে দ্রুত বাড়লেও, বিশ্লেষकों মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। এর জন্য তারা অর্থনৈতিক ধীরগতিতেও দায়ী, যা ২০২১ সালের পর থেকে দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে, রাশিয়া এখনো শক্তিশালী সামরিক চাপ চালিয়ে যেতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, ছোট দেশের এই আঘাতের বিরুদ্ধে রাশিয়া যুদ্ধের ধরন পরিবর্তন করছে। ক্রেমলিন দ্রুত উচ্চসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে আক্রমণ চালাচ্ছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়মিত ক্ষতি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার সামরিক নিয়োগ কমে আসার ইঙ্গিত সম্মুখে এসেছে, তবে সামরিক প্রচেষ্টা আরও চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।
বেলারুশে ব্রিটিশ সাবেক রাষ্ট্রদূত গোল্ড ডেভিসের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে একদিন ক্রেমলিনের জন্য ‘সত্যের মুহূর্ত’ আসবে, যেখানে তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন, পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে শ্রমিক ও নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, যেখানে নিয়োগকারীরা অবৈধ বা অযোগ্য ব্যক্তিকেও সেনাবাহিনীতে নেয়ার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।
রুশ সেনাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন মত পার্থক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাশিয়ার প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি হতাহত হয়েছে।













