ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৯ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রমজানে ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের আহ্বান কলকাতায়

পবিত্র রমজান মাসে কলকাতার ফল ব্যবসায়ীরা ইসরায়েলি খেজুর বয়কটের ডাক দিয়েছেন, যা তারা গাজায় ঘটে যাওয়া গণহত্যার প্রতিবাদে করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলের বাজার মেছুয়া ফলপট্টিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করে নিরীহ মানুষের রক্তে রঙিন এক দেশের পণ্য এ সময় বাজারে স্থান পাবে না।

আনাস আলী নামে একজন পাইকারি ফল বিক্রেতা বললেন, কলকাতা সহ পুরো পশ্চিমবঙ্গের বাজার থেকে ইসরায়েলি খেজুর সরিয়ে দিচ্ছেন তারা। এই বয়কট আন্দোলনে সবাই একযোগে অংশগ্রহণ করেছেন, এবং এটি সফল হয়েছে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কেউ ইসরায়েলি খেজুর বিক্রি না করে।

আনাস আলী আরও জানিয়েছেন, কিছু অসাধু চক্র কৌশলে প্যাকেজিং বা মোড়ক বদল করে ইসরায়েলি খেজুর বিক্রির চেষ্টা করছিল। তারা খেজুরের প্যাকেটে দেখাচ্ছিল, খেজুরের উৎপাদন দেশের নাম যেমন কিং সলেমান, রিচ কান্ট্রি বা জর্ডান। কিন্তু নজরদারির মাধ্যমে এই সব চক্রান্ত ধরা পড়ে গেছে।

আনাস আলী বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ এই নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করতে না পারে, তার জন্য মেছুয়া ফলপট্টির পক্ষ থেকে একান্ত ও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে মুম্বাই থেকে আসা ইসরায়েলি শত শত খেজুরের কার্টন ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে খুশি মুসলিম সম্প্রদায়ও। তারা উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি খেজুরের বদলে এ রমজানে ভারত, ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, আলজেরিয়া ও তিউনেশিয়া থেকে আসা খেজুর কিনছেন রোজাদাররা।

এক ক্রেতা সাহেব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পবিত্র রমজানে এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা ব্যবসায়ীরা এই পদক্ষেপের সঙ্গে আছি। সাধারণত রমজানে বিদেশি খেজুরের ওপর নির্ভরশীল থাকি। কিন্তু শুনছি, ভিন্ন নামে ইসরায়েলি খেজুর বিক্রি হচ্ছে। তাই এই রমজানে ভারতীয় খেজুরের বাইরে কিছুই কিনব না। তাছাড়া, বিদেশি খেজুরের দামও অনেক বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।