ক্রিকেট বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে, যখন সবাই অপেক্ষা করেছিলেন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল ম্যাচ দেখতে। তবে এই সুখবর আর থাকল না, কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান পরিসংখ্যান ও ফলাফলের ভিত্তিতে এ ধারণা এখন প্রতারিত হয়েছে। মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের কাছে পাকিস্তানের হার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাবনাকে চিরতরে শেষ করে দিয়েছে। এখন শুধু তখনই এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আবার মুখোমুখি হতে পারে, যদি তারা নিজেদের গ্রুপের সেরা দল হিসেবে ফাইনালে পৌঁছে। মূলত, সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য অন্তত একটির গ্রুপের শীর্ষ স্থান অধিকার করা প্রয়োজন, যা এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান ফুটে থাকা ফর্ম্যাট অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের সুপার এইট পর্বে কোনও গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল অন্য গ্রুপের রানার্সআপের মুখোমুখি হবে, আবার দ্বিতীয় স্থানধারী দল অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হবে। মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের কাছে পাকিস্তানের পরাজয় নিশ্চিত করেছে যে, পাকিস্তান তিন ম্যাচে কেবল এক পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, এবং তাদের পক্ষে এখন আর গ্রুপের শীর্ষে ওঠার কোন সম্ভাবনা নেই। তারা এখন শুধু যদি নিজেদের শেষ ম্যাচ জেতে, তাহলেও সর্বোচ্চ তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে শেষ হবে, যা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। এখানেই এসে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তানের সম্ভাবনা শুধুমাত্র রানার্সআপ হিসেবে পৌঁছানোর।
অন্যদিকে, ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল। তারা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বর্তমানে টেবিলে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে শেষ ম্যাচে জিতলেই তাদের পয়েন্ট হবে চার, কিন্তু নেট রান রেটের দুর্বলতা (-৩.৮০০) তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথকে খুবই কঠিন করে তুলেছে। সেমিফাইনালে পৌঁছানোর জন্য তাদের এখন অবশ্যই বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করতে হবে আগামী দুই ম্যাচে, অর্থাৎ জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। তবে, যদি তারা সেমিফাইনালে পৌঁছায়, তা হলেও তাদের জন্য আর অপেক্ষা করে থাকছে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুসারে, গ্রুপের রানার্সআপ দলগুলো একটি অন্য গ্রুপের রানার্সআপ বা চ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে শেষ চারে মোকাবিলা করে। তাই, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা এখন অনেকটাই অবসৃত। এর আগে গ্রুপ পর্বে ভারত অপ্রতিরোধ্যভাবে জয় ছুঁয়ে নিয়েছিল পাকিস্তানকে, যা তাদের জন্য সাময়িক গৌরবের বিষয় ছিল। তবে, এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মূল আশা এই যে, যদি দুই দলই নিজেদের বাকি ম্যাচে জিতে ফাইনালে পৌঁছায়, তাহলে আবারও এই ঐতিহাসিক লড়াই দেখতে পাবেন বিশ্বব্যাপী ভক্তরা। ততক্ষণ পর্যন্ত, ক্রিকেটের ক্রীড়ামোদীরা অপেক্ষায় থাকবেন আরও উত্তেজনাপূর্ণ মোড়ের জন্য।














