ঢাকা | বুধবার | ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ভারতের সেমিফাইনাল সম্ভাবনায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এট ফাইনালে ভারতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পথ অনেকটাই ঝঞ্ঝাটে পড়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০৭ রানের বিশাল জয় দেশের স্বপ্নের মাঝে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয়দের এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্স শুধুমাত্র ম্যাচের ফলাফলই পাল্টে দেয়নি, বরং পুরো গ্রুপের গাণিতিক সমীকরণও বিপরীত করে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে ভারতের শুরুর চাপে থাকায় এই পরাজয়ের চাপ আরও বেড়ে গেছে। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপজ্জনক জয় এবং তাদের উন্নত নেট রানরেটের কারণে ভারতের জন্য সেমিফাইনালে যাওয়া আরো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিকে থাকতে হলে ভারতের এখন একটাই পথ, বড়ভাবে জয় লাভ করতে হবে, আর সেটা অবশ্যই বিশাল ব্যবধানে হওয়া আবশ্যক।

ম্যাচে ব্যাটিংয়ের প্রথমে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে দারুন উদ্বেলিত হয়েছিল দর্শকরা। শিমরন হেটমায়ার ৩৪ বলে ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, এছাড়া অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলও ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলের পক্ষে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলেন। তারা শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করে, যা ছিল অসাধারণ এক রেকর্ড। লক্ষ্য তাড়া করতে নামা জিম্বাবুয়ে শুরু থেকেই সমস্যা অনুভব করে, নিয়মিত উইকেট হারায়। স্পিনার গুডাকেশ মোতিয়ের নিখুঁত বোলিংয়ের সামনে তারা অসহায় আত্মসমর্পণ করে। শেষ পর্যন্ত মাত্র একশোর বেশি ব্যবধানে হেরে যায়। এই জয়ের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পয়েন্ট টেবিলের উপর দাপট দেখাতে থাকে এবং তাদের নেট রানরেটও ব্যাপক উন্নত হয়। এই ফল মাঠের পাশাপাশি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে ভারতের ভাগ্যেও।

বর্তমানে ভারতের নেট রানরেট মাইনাস ৩.৮০০, যা প্রত্যেকটি টুর্নামেন্টের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেমিফাইনালের টিকিট পেতে হলে ভারতের এখন নিজেদের শেষ ম্যাচগুলোতে বড় ব্যবধানে জিততে হবে। আগামীকাল চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে তারা মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের, একই দিনে আহমেদাবাদে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সব ম্যাচের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যত। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জিতে যায় এবং ভারত জিম্বাবুয়েকে পরাস্ত করে, তাহলে স্বাগতিক দলের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিশ্চিত হবে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতের সামনে এখন মূলত দুটি সম্ভাবনা খোলা: যদি তারা উভয় ম্যাচেই জেতে—অর্থাৎ জিম্বাবুয়েকে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায়—তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে ৪। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা যদি তাদের सभी পরবর্তী ম্যাচে জয় পায়, তবে তারা সেমিফাইনালে উঠবে। তবে পরিস্থিতির জটিলতা তখনই বাড়বে, যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে তিন দলের পয়েন্ট হবে ৪, আর তখন নেট রানরেটের ভিত্তিতে শেষ দুই দল নির্বাচন করা হবে। যেহেতু ভারতের রানরেট খুবই অসুবিধাজনক, তাই তাদের জন্য এখনই জিম্বাবুয়ার বিরুদ্ধে বড় সংগ্রহে জয় খুবই জরুরি।

অন্যদিকে, বাকি দুটি ম্যাচের কোনো একটিতে হেরে গেলে ভারতের আছে বিদায় নিশ্চিতের ঝুঁকি। বিশেষ করে, জিম্বাবুয়ের মতো কম শক্তিশালী দলের কাছে হারানো খুবই অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এই পরিস্থিতিতে, ভারতকে অন্তত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিততে হবে এবং অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের বাকি সব ম্যাচে জিততে হবে। তাহলে তৃতীয় দলের মত তিন দলই পয়েন্ট হবে ২, আর নেট রানরেটই হবে মূল নিয়ামক। সব মিলিয়ে, ভারতের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এবং প্রতিটি ম্যাচ যেন একটি অনির্বচনীয় ফাইনাল হয়ে উঠেছে।