ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ভ্যাম্পায়ার মেগা সিরিজে সিফাত নুসরাত

বাংলাদেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির ৫৫ বছরের ধারায় এক নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে—অতিপ্রাকৃত থিমের মেগা সিরিজে দরজাও খুলছে দেশীয় প্রচলিত শৈলীর বাইরে। অভিনেত্রী ও তরুণ উদ্যোক্তা সিফাত নুসরাত তার অপ্রকাশিত উপন্যাস ‘দ্য রেড মুন’ অবলম্বনে নির্মিত হতে থাকা ১০ পর্বের এই সিরিজের মুখ্য চরিত্রে দেখা দেবেন। হলিউড-বলিউড ছাড়িয়ে দেশের প্রেক্ষাপটে ভ্যাম্পায়ার ও ওয়ারওলফের গল্প দেখানো হবে বলে নির্মাণটিকে দেখছেন দেশের বিনোদনমহল আগ্রহভরে।

সিফাত নুসরাতকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ার একটা বড় কারণ হলো তিনি জেন-জি প্রজন্মের লেখক হিসেবে বই প্রকাশের আগেই পাণ্ডুলিপি বিক্রি করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। ‘রেড প্রোডাকশনস’ ব্যানারে তৈরি এই প্রজেক্টটি নির্মাতারা দাবি করছেন আন্তর্জাতিক মানের একটি সুপারন্যাচারাল সিরিজ হবে এবং দেশের দর্শকদের সামনে নতুন ধরনের ফ্যান্টাসি কনটেন্ট উপস্থাপন করবে।

সিরিজের প্রধান আকর্ষণ চরিত্রগুলোর বৈচিত্র্য। প্রধান নারী ভূমিকায় ভ্যাম্পায়ার হিসেবে দেখা যাবে সিফাত নুসরাতকে। তার বিপরীতে শক্তিশালী অভিনেতা শ্যামল মাওলা প্রথমবারের মতো নেকড়ে-মানুষ বা ওয়ারওলফের চরিত্রে অভিনয় করছেন। সাধারণ মানুষের সাথে অতিপ্রাকৃত শক্তির সংঘাত ও জটিল আবেগ ফুটিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। নির্মাতা ও কলাকুশলীরা অভিমত জানিয়েছেন, গল্পের ভিজ্যুয়াল ও শৈল্পিক উপস্থাপনায় তারা আন্তর্জাতিক মান ধরে কাজ করছেন।

নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে সিফাত নুসরাত বলেন, ২০২৫ সাল থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। সিজন ওয়ানের ১০ পর্বের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭টির কাজ শেষ এবং বাকি ৩টি পর্বের দৃশ্যধারণ দ্রুতগতিতে চলছে। সম্পন্ন হওয়া পর্বগুলোর ডাবিং কার্যক্রমও শেষ হয়েছে। শৈল্পিক গুণমান বজায় রাখতে কাজ চলাকালীন তিনি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে কিছুটা আলাদা রেখেছিলেন; সেই নীরবতার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

দেশীয় প্রেক্ষাপটে ভিন্নধর্মী এই গল্পটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। রহস্য, রোমাঞ্চ ও আধুনিক জীবনের সংমিশ্রণে তৈরি সিরিজটি শীঘ্রই কোনো শীর্ষস্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিফাতের বিশ্বাস—দেশের নির্মাতারা এখন আন্তর্জাতিক মানের ফ্যান্টাসি ও সুপারন্যাচারাল কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম, এবং ‘দ্য রেড মুন’ তা প্রমাণ করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই বড় বাজেটের মেগা সিরিজটি ঢালিউডের প্রচলিত ধারায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।