ঢাকা | বুধবার | ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সিফাত নুসরাতের ভ্যাম্পায়ার সিরিজ ‘দ্য রেড মুন’

বাংলাদেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির প্রায় ৫৫ বছরের পথচলায় এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন ধরনের বিনোদন। হলিউড বা বলিউডে যতবার ভ্যাম্পায়ার-ওয়্যারউলফের কাহিনি আগ্রহের ঝড় তুলেছে, অনান্য ভূমিকায় এবার দেশের প্রেক্ষাপটেই এমনই একটি সুপারন্যাচারাল ধারার মেগা সিরিজ নিয়ে আসছেন অভিনেত্রী ও তরুণ উদ্যোক্তা সিফাত নুসরাত।

নিজের লেখা অপ্রকাশিত উপন্যাস ‘দ্য রেড মুন’ অবলম্বনে নির্মিত হবে দেড়-দশ পর্ব নয়—বরং ১০ পর্বের একটি মেগা সিজন। প্রকাশিত হবার আগেই পাণ্ডুলিপি বিক্রি করে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের প্রথম লেখক হিসেবে তিনি অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন বলে শিল্পী-পরিবেশে শোনা যায়। প্রজেক্টটি ‘রেড প্রোডাকশনস’ ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে এবং নির্মাতা ও কলাকুশলীরা এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি সুপারন্যাচারাল প্রজেক্ট হিসেবে দাবি করছেন।

সিরিজটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তার চরিত্রবৈচিত্র্য। প্রধান নারী চরিত্রে, অর্থাৎ ভ্যাম্পায়ারের ভূমিকায় মঞ্চ মাতাবেন সিফাত নুসরাত নিজেই। তাঁর বিপরীতে প্রথমবারের মতো নেকড়ে-মানব বা ‘ওয়্যারউলফ’ চরিত্রে দেখা যাবে শক্তিমান অভিনেতা শ্যামল মাওলাকে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক ও আবেগের সঙ্গে অতিপ্রাকৃত ঘটনার সংঘর্ষকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি।

সফটওয়্যার ও পরিবেশ নির্মাণে সৃজনশীল দলটি বিশেষ মনোযোগ করেছে বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দৃশ্যসজ্জা, মেকআপ, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এবং সাউন্ড ডিজাইনে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চেষ্টা চলছে, যাতে দর্শকরা দেশীয় প্রেক্ষাপটেই বিশ্বস্ত ও ভিন্ন ধরণের ফ্যান্টাসি দেখতে পান।

নির্মাণসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিফাত নুসরাত জানান, বড় প্রস্তুতি ২০২৫ সাল থেকেই শুরু হয়। সিজন ওয়ানের ১০টি পর্বের মধ্যে বর্তমানে ৭টির কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে এবং বাকি ৩টি পর্বের শুটিং দ্রুতগতিে চলছে। সম্পন্ন পর্বগুলোর ডাবিংও শেষ হয়েছে। শৈল্পিক মান বজায় রাখার আশয়ে তিনি কিছু সময় মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে অন্তঃকরণ করেছিলেন এবং কাজের এই গোপনীয়তার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

দেশীয় দর্শকের মনে কৌতূহল জন্মিয়েছে এই ভিন্ন ধরনের গল্পের জন্য। রহস্য, রোমাঞ্চ আর আধুনিক জীবনের টানাপোড়েন মিশিয়ে তৈরি এই ধারাবাহিকটি শীঘ্রই কোনো শীর্ষস্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে। সিফাতের কথায়, ‘‘এটি প্রমাণ করবে যে দেশীয় নির্মাতারা আন্তর্জাতিক মানের ফ্যান্টাসি ও সুপারন্যাচারাল কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম।’’

সব মিলিয়ে বড় বাজেটের এই প্রকল্পটি ঢালিউডের প্রচলিত ধারার বাইরে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে শিল্প সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দর্শকরা যদি রোমাঞ্চকর কাহিনি ও গুণগত চলচ্চিত্রায়ন কামনা করে, তবে ‘দ্য রেড মুন’ সেই প্রত্যাশায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।