ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ধর্মব্যবসায়ী ও জুলুমবাজদের স্থান নেই বাংলাদেশে: ধর্মমন্ত্রী

পবিত্র ইসলামকে কেন্দ্র করে যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে অথবা ধর্মের নামে ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেইন (কায়কোবাদ)। আজ সোমবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আয়োজন করে ‘ইসলামী বইমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, যারা ধর্মের আড়ালে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বা এটিকে ব্যবসার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের জন্য কোনো জায়গা নেই বর্তমান সরকারের শাসনামলে। ইসলামির প্রকৃত আদর্শ প্রচার ও প্রসারে সরকার নিরলস কাজ করে যাবে।

অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী মহান আল্লাহর নির্দেশ মানার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটাই মূল। তিনি জানান, মহান আল্লাহর হুকুম পালনের মাধ্যমে পৃথিবীতে সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নবীন ও সৃজনশীল কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এই সংস্থা থেকে প্রকাশিত মানসম্মত ইসলামিক বইগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিচ্ছে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে এবং ইসলামি ভাবধারা অপব্যাখ্যারোধে এই ধরনের বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

কায়কোবাদ অতীতে যারা সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন, অবিচার ও জুলুম করেছে, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে চেতনা দিচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো অত্যাচারী বা জুলুমকারীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। ইসলামি মানবিক মূল্যবোধ সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শুরু হওয়া এই মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনী তাদের সংগ্রহীত ও নতুন প্রকাশিত নানা কালজয়ী ইসলামিক গ্রন্থ নিয়ে অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ছালাম খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ইসলামি সংস্কৃতিকে উজ্জ্বল ও বিকাশের জন্য এ মেলা সব স্তরের ধর্মপ্রাণ পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করছেন অংশগ্রহণকারীরা। মেলা উদ্বোধনের পর মন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং প্রকাশকদের উৎসাহ দেন।