তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো দলীয় রাষ্ট্র নয়; সরকার জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বকারী, জনভিত্তিক প্রশাসন গঠন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি আজ রোববার বিকেলে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কান্ডাপাশা এলাকার ‘কাপলাতলি খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনবান্ধব ও সহজলভ্য করে তোলা হবে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সংস্কার করে তা শক্তিশালী করা হবে, যাতে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুরক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং ক্ষমতাবদলের পথ সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ হবে।
প্রশাসন ও পুলিশি সংস্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র ও পুলিশকে এমন একটি পেশাগত ও নিরপেক্ষ পরিবেশ দিতে হবে যেখানে তারা কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব ছাড়াই জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। অতীতের দলীয় স্বার্থনিষ্ঠ ব্যবহারের সংস্কৃতি পরিহার করে সত্যিকারের পেশাদার প্রশাসন গঠন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সরকারি কর্মকর্তাদের তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের জন্য সরকার সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের একটি ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের কেন্দ্রীয় উদ্বোধন খুব শিগগির হবে। এর ধারাবাহিকতায় বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে গৌরনদীর ‘কাপলাতলি খাল’ খননের কাজ শুরু করা হয়েছে। শুধু খাল খনন নয়, পরিবেশ রক্ষাসহ জলাধারগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে খালের ধারে ও আশপাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণও করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সকল স্তরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। এই সমন্বিত উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এবং বিশাল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই উন্নয়নমূলক কাজ স্থানীয় কৃষিজীবী ও জনসাধারণের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে।














