ইতিহাদে নাটকীয়তার বন্যায় ২-১ গোলে নিউক্যাসলকে পরাজিত করে শিরোপা প্রতিযোগিতায় আর্সেনালের আরও কাছে চলে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার রাতে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা আক্রমণাত্মক ফুটবলে শুরু থেকে দাপট দেখিয়ে প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটে ও’রাইলির গোলে এগিয়ে যায়। মাঝমাঠ থেকে ওমর মারমুশের দেওয়া একটি দুর্দান্ত বল সামলে বাঁ পায়ের তাৎপর্যপূর্ণ শটে ও’রাইলি বল জালে পরিণত করেন।
তবে সিটির আটমিডে নির্দিধায় সেই লিড টিকিয়ে রাখতেই পারেনি—they নিউক্যাসল দ্রুতই সমতায় ফেরে। সিটির এক দুর্বল ক্লিয়ারেন্স থেকে লুইস হল বল পেয়ে জোরালো শট নেন, যা সিটির ডিফেন্ডারের দেহে লেগে দিক বদলে জিয়ানলুইজি দোনারুম্মার বুকে ফাঁকি দিয়ে জালের কোণে আটকে যায়। সমতা ফিরে গেলেও সিটির লড়াকু মনোভাব অটুট ছিল।
দলীয় প্রয়োজনে নিজের রক্ষণী দায়িত্ব নেন আর্লিং হালান্ড—এই ম্যাচে তিনি নিজের নামের পাশে গোল রাখতে পারলেন না, কিন্তু মাঠের প্রতিটি অঞ্চল জুড়ে অবদান রেখেছিলেন। নিচে নেমে বল কিলিয়ার করা, ট্যাকল ও রক্ষণে সহায়তায় হালান্ড দলে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ম্যাচের শেষ দিকে হালান্ড যে পরিশ্রম দেখান, তার ফল হিসেবে আসে ম্যাচের বিজয়ী মুহূর্ত। হালান্ডের সুনির্দিষ্ট ক্রস থেকে ও’রাইলি ম্যাচে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন—এলটিইহাজিতের উচ্ছ্বাস ফেরা সেই মুহূর্ত। এটি প্রিমিয়ার লিগে ও’রাইলির প্রথম জোড়া গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসলের আক্রমণের প্রচেষ্টা থাকলেও সিটি রক্ষণে নিবিড় মনোযোগ রেখে লিড ধরে রাখতে সমর্থ হয়। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে সিটির নামে রেকর্ড হয়।
এই জয়ের ফলে ২৭ ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৬ পয়েন্ট; একই ম্যাচ খেলে শীর্ষে আছে আর্সেনাল ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে। এখন আর্সেনালকে ছোটানোটাই মূল চ্যালেঞ্জ—রোববার উত্তর লন্ডন ডার্বিতে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে খেলবে তারা। যদি টটেনহ্যাম আর্সেনালের কোনো পয়েন্ট ছিনিয়ে নাক, তাহলে ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা দৌড় আরও সুবিধাজনক অবস্থায় চলে আসবে।
প্রিমিয়ার লিগের এই নাটক এখন ফুটবলপ্রেমীদের উদ্যত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচ ফল শিরোপা দৌড়ের গতি বদলে দিতে পারে।














