ঢাকা | শনিবার | ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সোনারগাঁয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ পরিবারের পাশে এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে লাগা আগুনে পুড়ে বাসস্থান হারিয়েছে ১৮টি পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রসহ মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেছেন।

আগুনের শুরু হওয়া মূল সূত্রি হিসেবে জানা যায়, নূরুল আলমের বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে জুম্মান মিয়া, নূরুল আলম ও মাহিজ উদ্দিনের বাড়িতে এবং মিলিয়ে মোট ১৮টি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। সন্ধ্যার অল্প সময়ের মধ্যেই লোকজন জীবিতেই বাড়ি থেকে বের হলেও কোনো কাগজপত্র বা মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করতে পারেননি তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত নূরুল আলম বলেন, তাদের বাড়িটি শিল্প এলাকা হওয়ায় বাড়ির ১০টি কক্ষে ১০টি পরিবার ভাড়া থাকতেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কিছুই বাঁচাতে পারেননি, সবাই কেবল প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যান নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দিনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এমপি মান্নান স্থানীয় নেতাকর্মী, সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামらের সঙ্গে ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাহায্য এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘‘অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে আমি আছি। কেউ যেন অকল্পনীয় অসহায়তায় না পড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।’’

সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. জাহেদ চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলে তিনটি বাড়ির মোট ১৮টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তাত্ক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি, তবে প্রাথমিক হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিসাধন হয়েছে।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তরা আত্মীয়-স্বজন বা স্থানীয়দের আতিথ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের আশ্বাস অনুযায়ী দ্রুত আর্থিক ও নৈবেদ্য সহায়তা এবং পুনর্বাসনের ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।