ঢাকা | শনিবার | ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

চঞ্চল চৌধুরী: বাংলাদেশ এখনও পূর্ণ পেশাদার চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি গড়তে পারেনি

কলকাতায় এক আড্ডায় দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগতের তুলনামূলক পরিস্থিতি তুলে ধরে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ পেশাদার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারেনি।

চঞ্চল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রপরিবেশ অনেকটাই ছকবাঁধা ও পেশাদার; শুটিং কত দিনে শেষ হবে, বাজেট কেমন হবে—এসব বিষয়ে আগে থেকেই স্পষ্টতা থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ধরনের স্থির কাঠামোর অভাব দেখা যায়। তিনি সেটাও অতিরিক্ত করে বলেন যে এটি দেশের চলচ্চিত্রব্যবস্থার একটি নেতিবাচক দিক।

নির্মাতাদের অনেক ক্ষেত্রেই বছরের পর বছর ধরে কোনো ছবির জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়—এই অনিশ্চয়তাই কাজকে সংকটে ফেলে। চঞ্চল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে বলেন, তিনি এক কোটি টাকার বাজেটের ছবিও করেছেন, আর দশ কোটি টাকার ছবিতেও অভিনয় করেছেন। বাজেট নির্ধারণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতার অভাব শিল্পকে পিছিয়ে দিচ্ছে।

চঞ্চল আরও মন্তব্য করেন, সারা বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষী দর্শক আছে এবং তাদের জন্য বড় পরিসরের সমন্বিত, মানসম্পন্ন কাজ করা উচিত। তিনি দুই বাংলা—বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ—একসঙ্গে বড় প্রকল্পে কাজ করলে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে আরও শক্তভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেছেন।

চঞ্চল সম্প্রতি ব্রাত্য বসুর ‘শেকড়’ ছবিতে অভিনয় করেছেন; গত বছর ছবিটির শুটিং শান্তিনিকেতনে হয়। পাশাপাশি তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গল্প অবলম্বনে নির্মিত অন্য এক ছবিতেও পরীমণির সঙ্গে অভিনয় করছেন।

সমগ্র কথোপকথনে চঞ্চল যে বার্তা দিয়েছেন তা হলো—বাংলা চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু পেশাদারোময় কাঠামো ও আর্থিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা না হলে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না।