ঢাকা | শুক্রবার | ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নামিবিয়া উড়িয়ে সুপার-এইটে পাকিস্তান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ নামিবিয়াকে ১০২ রানে হারিয়ে সুপার-এইটে জায়গা নিশ্চিত করল পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আয়োজিত ম্যাচে শাহিবজাদা ফারহানের অভিজাত সেঞ্চুরি এবং বোলারদের ধারাবাহিক বুদ্ধিমত্তায় সালমান আগারের নেতৃত্বাধীন দল একপেশে জয় তুলে নেয়।

গ্রুপ ‘এ’-তে পাকিস্তান এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে সুপার-এইটে খেলার টিকিট কনফার্ম করে। এর আগে একই গ্রুপ থেকে ভারত আগেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছিল। পাকিস্তানের এই বড় জয়ে নামিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস—এই তিন দলই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল।

টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। শুরু থেকেই নামিবিয়ার বোলারদের ওপর আধিপত্য দেখায় ওপেনাররা। শাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব প্রথম জুটিতে ৩১ বলে ৪০ রান যোগ করে দলকে মজবুত শুরু দেন। সাইম ফিরে গেলেও ফারহান ক্রমান্বয়ে আক্রমণে ছিলেন। দ্বিতীয় উইকেটে তিনি অধিনায়ক সালমান আগারকে নিয়ে ৪২ বলে ৬৭ রানের সংহত জুটি গড়েন। আগার ২৩ বলে ৩৮ রানে অবসান হলেও ফারহান থেমে না থেকে চতুর্থ উইকেটে শাদাব খানকে সঙ্গে নিয়ে তাণ্ডব চালান।

ফারহান ৫৭ বলে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি পর্যন্ত পৌঁছান — এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ৪৩ নম্বর টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাওয়া মাইলফলক। শাদাব খানও ২২ বলে ঝড়ো ৩৬ রানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করায়।

১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া শুরুতেই পাকিস্তানি বোলিংয়ের তীব্র চাপের মুখে পড়ে। উসমান তারেক ও শাদাব খানের স্পিন-হামলায় নামিবিয়ার ব্যাটিং আলাদা জোড়া দাঁড়াতে পারেনি। দলের সর্বোচ্চ ইনিংসটি পড়ে লরেন স্টিনক্যাম্পের ২৩ রানে; আলেকজান্ডার বাসিং ভোলশেঙ্ক ২০ করে দলের সংগ্রহকে সামলানোতে ব্যর্থ হন। বাকিরা ব্যর্থতা আর নিয়মিত উইকেট হারায়ার ফলে মাত্র ১৭.৩ ওভারে নামিবিয়া ৯৭ রানে হার মানে।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে উসমান তারেক ৩.৩ ওভারে ১৮ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যাচের প্রবাহ বদলে দেন। শাদাব খানও ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ের নায়ক হন। বাকি বোলাররাও সময়মতো ক্রান্তিলগ্নে দাপট দেখান এবং নামিবিয়ার ইনিংস তছনছ করে দেন।

এই জয়ে পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ল। গ্রুপ পর্বে নড়বড়ে শুরু ছিল কিন্তু তারা সময় মতো নিজেদের ধরিয়ে দিচ্ছে—ফারহানের অসামান্য ফর্ম ও শাদাবের অলরাউন্ড প্রভাবই দলের জন্য সবচেয়ে বড় আশ্বাস। এখন সামনে সুপার-এইটে কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে; সেখানে ভালো প্রস্তুতিই হবে পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য।

আজকের প্রতিরোধী ও ধারালো প্রদর্শনী পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়োৎসবের আশা উজ্জ্বল রাখল এবং টিমের চলমান ভাবমূর্তি আরও মজবুত করল।