সত্তরের দশকের আইকনিক অ্যাকশন-গোয়েন্দা গল্প ‘চার্লিস এঞ্জেলস’ বড় পর্দায় ফিরে আসছে — এমনই খবর দিয়েছে বিনোদন জগতের প্রভাবশালী প্রকাশনা ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’। ২০১৯ সালের সিনেমার পর ছয় বছরের বিরতি কাটিয়ে সনি পিকচার্স এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী প্রয়াসগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হয়নি, তবু বিশ্বজুড়ে দর্শকদের থ্রিলার এবং নারী-কেন্দ্রিক অ্যাকশন কাহিনির প্রতি আকর্ষণকে মাথায় রেখেই স্টুডিওটি বড় প্রজেক্টের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে।
নতুন কিস্তিটির চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খ্যাতনামা লেখক পিট কিয়ারেলিকে, যিনি ‘দ্য প্রোপোজাল’ এবং ‘ক্রেজি রিচ এশিয়ানস’–এর মতো ব্যাবসাসফল ছবির সাথে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁর কলমে ‘চার্লিস এঞ্জেলস’ আরও আধুনিক, টানটান এবং বুদ্ধিদীপ্ত ভাবে নতুন রূপ পেতে পারে। সনি পিকচার্স মূলত অভিজ্ঞ লেখক ও নির্মাতাদের ওপরই আস্থা রাখছে, যাতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হারানো গৌরব ও দর্শকপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করা যায়।
জরিপ-গুঞ্জনে বলা হচ্ছে ২০০০ সালের সফল চলচ্চিত্র সিরিজের মুখ্য তারকাদের একজন ড্রু ব্যারিমোর এবং তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্লাওয়ার ফিল্মসও এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে পারেন। ড্রুর নাম যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আসতে পারে, তা হলে দর্শকদের মধ্যে নস্টালজিয়া ও আগ্রহ নাড়া দিয়ে উঠবে। তবে এ পর্যন্ত সনি পিকচার্স বা ড্রু ব্যারিমোরের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ইতিহাসও নজরকাড়া। ১৯৭৬ সালে জন্ম নেওয়া টিভি সিরিজটি ১৯৮১ পর্যন্ত চলেছিল এবং জ্যাক্লিন স্মিথ, কেট জনসন ও ফারাহ ফসেটের মতো তারকারা দ্রুত সেটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। পরে ২০০০ ও ২০০৩ সালের দুটি বড় ফিচার ছবি বক্স অফিসে সফলতা পায়। তবু পরের প্রচেষ্টাগুলো একইরকম খ্যাতি ধরে রাখতে পারেনি — ২০১১ সালের টিভি রিবুটটি মাত্র সাত পর্বে বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০১৯ সালের এলিজাবেথ ব্যাঙ্কস পরিচালিত সিনেমাটিও দর্শকদের মন যথেষ্ঠ জয় করতে পারেনি।
নতুন উদ্যোগটি তাই মুখোমুখি এক প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ—কীভাবে শ্রোতাদের সেই পুরনো মজা এবং উত্তেজনা আবার ফিরিয়ে আনা যায়। পিট কিয়ারেলির তত্ত্বাবধানে নির্মিত কাহিনি যদি সমসাময়িক প্রসঙ্গ ও শক্তিশালী চরিত্রায়ন নিয়ে আসে, তাহলে ‘চার্লিস এঞ্জেলস’ নতুন প্রজন্মকেও আকৃষ্ট করতে পারবে বলে মত বিশ্লেষকদের।
এখন অপেক্ষা নির্দিষ্ট কাস্টিং, প্রযোজনা টিম ও মুক্তির সময়সূচি নিয়ে সনি পিকচার্সের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত। সিনেমাপ্রেমী ও নস্টালজিয়াভক্তরা যে আগ্রহ নিয়ে নতুন খবরের প্রতীক্ষায় আছে, তা বলা যায়।














