ঢাকা | শুক্রবার | ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

কুমিল্লা উচ্ছ্বসিত: মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন তিন নেতা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় কুমিল্লা থেকে তিন নেতার অন্তর্ভুক্তি এলাকায় উৎসবের আবহ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনীতি ও জনজীবনে সক্রিয় থাকা এই তিনজনের মন্ত্রিসভায় যাওয়ায় জেলা জুড়ে আনন্দ এবং মিষ্টি বিতরণের ধারা চলছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়েকবাদের দায়িত্ব নিয়ে কুমিল্লার মানুষের মধ্যে বিশেষ উল্লাস দেখা গেছে। গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কায়েকবাদ দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বড় ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট নিয়ে নির্বাচিত হন এবং অর্ধলাখের বেশি ভোটের ব্যবধান বজায় রেখেছেন। ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন; ১৯৮৬ সালে হুইপ এবং ১৯৮৮ সালে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ‘দাদা ভাই’ হিসেবে পরিচিত কায়েকবাদের ধর্মমন্ত্রীর ভূমিকায় দেখে উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যন্ত উৎসব শুরু হয়েছে।

বরুড়া উপজেলা থেকে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিমণ্ডলে স্থান পেলেন জাকারিয়া তাহের সুমন। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ বরুড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর এখান থেকেই কেউ মন্ত্রী হননি—৭৮ বছর পর তা বদলেছে। জাকারিয়া ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন; ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে তিনি প্রথমবার এমপি হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। বরুড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল হক স্বপন বলেন, দীর্ঘ ৭৮ বছরের অপেক্ষার পর মন্ত্রী পাওয়ায় এবার বরুড়ার ব্যাপক উন্নয়নের আশায় তারা আশাবাদী।

কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার পর দলের চেয়ারম্যানের অনুরোধে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলের প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালান। সমর্থকদের বক্তব্য—ব্যক্তিগত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দলকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি দক্ষিণ কুমিল্লার ছয় আসনে সমন্বয় করেছেন, যা ধানের শীষের জয়ে সহায়ক হয়েছিল; এ নিয়েই তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ইয়াছিন ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা-৯ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন; ২০২৫ সালের ১২ মার্চ তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হওয়ার তথ্যও রয়েছে।

মন্ত্রিসভায় কুমিল্লার এই তিন নেতার অন্তর্ভুক্তি জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। নেতা-কর্মীরা বলছেন, এ নিয়োগ কুমিল্লার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করবে ও নতুন দরজা খুলে দেবে। জেলা জুড়ে এখন সংবাদ-নিয়ন্ত্রণে উৎসব, আলিঙ্গন, মিষ্টি বিতরণ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাসি-আনন্দ চলছে।