ঢাকা | শুক্রবার | ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

টি-টোয়েন্টিতে একবার ভুল হলে ফের ওঠা কঠিন: রশিদ খান

গতবারের সেমিফাইনালিস্ট আফগানিস্তান ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আপাতত নিভৃতেই বিদায় নিয়েছে। ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ পড়ে শুরু থেকেই বড় ধাক্কা খায় রশিদের দল; নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া তাদের টুর্নামেন্টকে দ্রুতই শেষ পথটায় ঠেলে দিয়েছে।

শুধু পরাভয়ই নয়, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লড়াইটি ছিল হৃদয়বিদারক — ম্যাচ টানটানভাবে গড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পরপর দুটি সুপার ওভার পর্যন্ত গিয়ে হার হজম করতে হয়েছে আফগান শিবিরকে। দুই বড় দলের বিপক্ষে এত ঘন ঘন উচ্চচাপে থাকা এবং সামনাসামনি কড়াকড়ি ম্যাচগুলো ছোটখাটো ভুলগুলোকেই বড় পরিণতিতে পরিণত করে দিয়েছে। ফলত পরবর্তী ম্যাচগুলো তাদের কাছে কেবল আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়েছিল।

অভিজ্ঞ অধিনায়ক রশিদ খান এই অকাল বিদায়ে গভীর আক্ষেপ ব্যক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্যে ছিল, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ধরনটাই এমন—এখানে ভুলের কোনো অবকাশ নেই। বড় দলের বিপক্ষে এক ছোট ভুলও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে, আর একবার পথ হারালে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুই জায়ান্টের মুখোমুখি হওয়া শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্দান্ত চ্যালেঞ্জ ছিল, এবং সূচি-চাপের সঙ্গে মাঠের ছোটখাটো ভুলই শেষ পর্যন্ত তাদের স্বপ্নে ইতি ঘটিয়েছে। তবু এই ব্যর্থতাকে তারা শুধুই হতাশার চোখে দেখছেন না; রশিদ জানিয়েছেন, এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা শক্ত ছাড়া হয়ে ফিরে আসার প্রত্যয় রাখে।

আফগান ক্রিকেটের জন্য এই বিদায়ের সঙ্গে এক বড় অধ্যায়েরও ইতি ঘটছে—প্রধান কোচ জনাথন ট্রট দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রশিদের নেতৃত্বে দলের সাফল্যে ট্রটের অবদান স্পষ্ট। রশিদ জানান, ট্রট শুধু কৌশলগত দিকেই নয়, ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর যাওয়া আফগান ডাগআউটে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে, এবং সামনের দিনগুলোতে সেই ভাঙন পূরণ করাই রশিদ ও প্রশাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে।

বিশ্বকাপ মিশন ব্যর্থ হলেও রশিদের ওপর এখন দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে—নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতেই হবে, তরুণদের গাঁটছড়া বাঁধতে হবে এবং নেতৃত্বের ভূমিকা আরও দৃঢ় করতে হবে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ (দক্ষিণ আফ্রিকা)কে সামনে রেখে এখন থেকেই পরিকল্পনা সাজাতে হবে, বড় মঞ্চে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব পরীক্ষা পাস করতেই হবে। আপাতত এই অকাল প্রস্থানকে রশিদরা এক বড় শিক্ষা হিসেবে গ্রহন করেছেন এবং দ্রুত ফিরতে চান।