ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সেলিম খান আইসিইউতে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ—জরুরি অস্ত্রোপচারের অপেক্ষা

বলিউডের প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার ও সালমান খানের পিতা সেলিম খান বর্তমানে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৯০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটেছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, সেলিম খানের অবস্থার তত্পরতা বিবেচনায় আজ বুধবার তাঁকে একটি জটিল ও জরুরি অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে হতে পারে। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের একটি দল সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর অবস্থার ওপর নজর রাখছে এবং সকল প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অস্ত্রোপচারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অভিযোগ্য চিকিৎসা সংক্রান্ত বিবরণ প্রকাশ না করে পরিবারের কাছের এক সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন এবং প্রতিটি ধাপে পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ চলছে। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এখন একমাত্র সফল অস্ত্রোপচার এবং দ্রুত আরোগ্য কামনায় অপেক্ষায় রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলিউড তারকা ও সাধারণ ভক্তরা সেলিম খানের সুস্থতা কামনা করে মেসেজ পাঠাচ্ছেন।

এই খবরে স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে গেছেন। সালমান খান তাঁর সব শুটিং ও অন্যান্য পূর্বনির্ধারিত কাজে বিরতি দিয়ে বাবার পাশে রয়েছেন। পাশাপাশি ভাই আরবাজ খান, সোহেল খান, বোন আলভিরা অগ্নিহোত্রীসহ পুরো খান পরিবার হাসপাতালে একত্রিত হয়েছেন। গত রাতেই বহু দিন ধরে সেলিম খানের সঙ্গী ও সহ-লেখক জাভেদ আখতার তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন। এছাড়া অভিনেতা সঞ্জয় দত্তসহ বলিউডের অনেকে হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন।

পরিবার এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে কাছের সূত্রের ভাষায়, ডাক্তাররা প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষার পরে রিস্ক মূল্যায়ন করে অস্ত্রোপচারের সময় ও পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন। চিকিৎসাবিবরণী এবং অস্ত্রোপচারের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী উন্নতির সম্ভাবনা নির্ধারিত হবে।

হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেলিম খান কেবল একজন লেখকই নন, তিনি এক যুগের চলচ্চিত্র নির্মাণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। সত্তর-আশির দশকে জাভেদ আখতারের সঙ্গে ‘সেলিম-জাভেদ’ জুটির কলমে জন্ম নিয়েছে জঞ্জির, দিওয়ান, শোলে, ডনসহ বহু স্মরণীয় ছবি। এককভাবে তিনি নাম, জুর্মের মতো ছবির চিত্রনাট্য লিখেও প্রশংসিত হয়েছেন। চলচ্চিত্র জগত এখন তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে।